শ্রীমঙ্গলের সময়

পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসায় সুখবর, ২০২৭ সালে নিষ্পত্তি হবে আবেদন

বিশ্ব · 2026-11-08T11:18:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

পর্তুগালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য গোল্ডেন ভিসার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিচ্ছে দেশটির সরকার। ২০২৭ সালে এ কর্মসূচির আওতায় জমা পড়া আবাসন অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়াকরণকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের আবেদন নিষ্পত্তিতে গতি আসতে পারে।

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম দ্য পর্তুগাল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় বাজেট নিয়ে সংসদে আলোচনার সময় প্রেসিডেন্সিমন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো সরকারের এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, গোল্ডেন ভিসার আবেদন নিয়মিত করা এবং দ্রুত নিষ্পত্তি করা আগামী বছরের অন্যতম সরকারি অগ্রাধিকার হবে।

গোল্ডেন ভিসা থেকে সরকারের আয়

পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসার আনুষ্ঠানিক নাম ‘রেসিডেন্স পারমিটস ফর ইনভেস্টমেন্ট অ্যাক্টিভিটি’ (এআরআই)। এ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত বিনিয়োগ ও অন্যান্য আইনি শর্ত পূরণ করে বিদেশি নাগরিকেরা দেশটিতে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ পান।

আবেদন প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে দেশটির অভিবাসন সংস্থা এআইএমএ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি আবাসন অনুমতিপত্রের জন্য প্রায় ৬ হাজার ইউরো পর্যন্ত ফি নেওয়া হতে পারে। আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার পাশাপাশি এ ফি সংস্থাটির পরিচালন ব্যয় মেটাতেও ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কোন বিনিয়োগে পাওয়া যায় গোল্ডেন ভিসা?

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ২০১২ সালে গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি চালু করে পর্তুগাল। এর মাধ্যমে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী বিনিয়োগকারী এবং তাঁদের যোগ্য পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ পান।

তবে ২০২৩ সালে আইন সংশোধনের পর নতুন আবেদনকারীদের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনার মাধ্যমে গোল্ডেন ভিসা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়। বর্তমানে নির্ধারিত কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ কর্মসূচিতে আবেদন করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে যোগ্যতাসম্পন্ন বিনিয়োগ তহবিল, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অর্থায়ন, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্প এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যবসায়িক বিনিয়োগ।

আগের আবেদনকারীদের জন্য কী পরিবর্তন আসছে?

যাঁরা আগে থেকেই গোল্ডেন ভিসা পেয়েছেন, তাঁদের বিদ্যমান আইনি শর্ত মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে নির্ধারিত বিনিয়োগ বজায় রাখা এবং আবাসন অনুমতির অন্যান্য শর্ত পূরণের বিষয় রয়েছে।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিতে অগ্রগতি আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব বিদেশি বিনিয়োগকারী আবেদন জমা দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের জন্য এটি স্বস্তির খবর হতে পারে।

সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অভিবাসনসেবা কার্যক্রমে গতি আনতে গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে পর্তুগাল। ২০২৭ সালে আবেদন নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা কার্যকর হলে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটিতে বসবাসের অনুমতি পেতে আগ্রহীদের অপেক্ষার সময় কমতে পারে। তবে এখনো এটি সরকারের পরিকল্পনা; সব আবেদন ২০২৭ সালের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে, এমন কোনো নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।

সূত্র: দ্য পর্তুগাল নিউজ

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত