সহিংসভাবে সরকার বদলের আন্দোলনে জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি
বিশ্ব · 2026-10-29T08:18:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ভারতের উত্তরপ্রদেশে সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের চরিত্র যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করেছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার বা বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কোনো প্রার্থী সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে চাকরির অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি বিক্ষোভে সরকার পরিবর্তনের দাবিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকার চরিত্র যাচাইয়ের নীতিমালা আরও স্পষ্ট করেছে।
সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সহিংস উপায়ে বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠনের সদস্য হলে বা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে তাঁর সরকারি চাকরির যোগ্যতা পর্যালোচনা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তথ্য, প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি এবং নির্ধারিত যাচাইয়ের মানদণ্ড বিবেচনা করতে হবে।
নতুন নির্দেশনায় রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সহিংস কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করেন—শুধু এ কারণে তাঁকে সরকারি চাকরির অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না। একইভাবে, কারও বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের হওয়া কিংবা কোনো মামলার তদন্ত চলমান থাকাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি না দেওয়ার ভিত্তি হবে না।
প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার প্রকৃতি, ঘটনার পরিস্থিতি এবং চরিত্র যাচাইয়ের অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিকূল প্রতিবেদন পাওয়া গেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তাঁকে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়ার বিধানও রয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ সরকারের নিয়োগ ও কর্মিবিষয়ক বিভাগের প্রধান সচিব এম দেবরাজ এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছেন। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, করপোরেশন, কাউন্সিল ও স্থানীয় সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।
চরিত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দা ইউনিটকে যাচাইয়ের অনুরোধ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যাচাইয়ের প্রতিবেদন আসতে দেরি হলে নিয়োগপ্রক্রিয়া যেন অযথা আটকে না থাকে, সে বিষয়েও নির্দেশনায় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সরকারি চাকরির জন্য প্রার্থীদের আবেদন ও স্বঘোষণাপত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে নিয়োগ বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকারও সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। ফলে নতুন নীতিমালার প্রয়োগে রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং প্রকৃত সহিংস কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি।