২০২৬–২৭ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা কত, কার জন্য কত?
অর্থনীতি · 2026-10-29T07:23:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। নারী ও প্রবীণ করদাতার জন্য তা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা; প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতার জন্য ৫ লাখ টাকা এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও আহত জুলাই যোদ্ধার জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তবে করমুক্ত সীমা অতিক্রম, কর পরিশোধ ও রিটার্ন দাখিলের নিয়ম আলাদাভাবে বুঝতে হবে।
বাংলাদেশে ২০২৬–২৭ করবর্ষে আয়কর হিসাব করার আগে প্রত্যেক করদাতার জানা প্রয়োজন তাঁর জন্য প্রযোজ্য করমুক্ত আয়ের সীমা কত। কারণ সবার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা এক নয়। সাধারণ ব্যক্তি করদাতা, নারী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রকাশিত ২০২৬–২৭ করবর্ষের আয়কর নির্দেশিকা ও বাজেটসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতার ক্ষেত্রে এই সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। অন্য কয়েকটি শ্রেণির করদাতার জন্য সীমা আরও বেশি।
২০২৬–২৭ করবর্ষে কার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা কত?
করদাতার শ্রেণি
করমুক্ত আয়ের সীমা
সাধারণ ব্যক্তি করদাতা
৩,৭৫,০০০ টাকা
নারী করদাতা ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতা
৪,২৫,০০০ টাকা
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতা
৫,০০,০০০ টাকা
তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা
৫,০০,০০০ টাকা
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা
৫,২৫,০০০ টাকা
গেজেটভুক্ত আহত জুলাই যোদ্ধা
৫,২৫,০০০ টাকা
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতাদের ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত করমুক্ত আয়ের সীমা প্রযোজ্য। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির বিধান প্রযোজ্য।
এখানে উল্লেখ করা অঙ্কগুলো ২০২৬–২৭ করবর্ষের করমুক্ত আয়ের সীমা। করদাতার আয় কোন কোন খাত থেকে এসেছে, তাঁর বিশেষ কোনো যোগ্যতা আছে কি না এবং আইন অনুযায়ী অন্য কোনো বিধান প্রযোজ্য কি না, তা বিবেচনা করে চূড়ান্ত কর হিসাব করতে হবে।
প্রতিবন্ধী সন্তানের বাবা-মায়ের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা
প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্য থাকলে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিশেষ সুবিধা রয়েছে। ২০২৬–২৭ করবর্ষে প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য বাবা-মা কিংবা আইনানুগ অভিভাবকের করমুক্ত আয়ের সীমা প্রতি সন্তান বা পোষ্যের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা বাড়তে পারে।
তবে বাবা ও মা দুজনই করদাতা হলে একই সন্তানের জন্য দুজন আলাদাভাবে এই সুবিধা নিতে পারবেন না। তাঁদের মধ্যে যেকোনো একজন সুবিধাটি গ্রহণ করতে পারবেন।
উদাহরণ হিসেবে, একজন সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তিনি যদি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হন, তাহলে তাঁর ক্ষেত্রে সীমা দাঁড়াতে পারে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তবে সুবিধা দাবি করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে হবে।
করমুক্ত আয়ের সীমা বলতে কী বোঝায়?
করমুক্ত আয়ের সীমা হলো এমন একটি নির্ধারিত আয়সীমা, যার মধ্যে থাকা আয় সাধারণ নিয়মে ব্যক্তির আয়কর হিসাবের প্রথম ধাপে করমুক্ত থাকে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, কারও মোট আয় এই সীমা অতিক্রম করলেই পুরো আয়ের ওপর একই হারে কর বসবে।
সাধারণভাবে, প্রযোজ্য করহার অনুযায়ী করমুক্ত সীমার পরবর্তী অংশ থেকে করের হিসাব শুরু হয়। এরপর আয় যত বাড়ে, প্রযোজ্য কর স্ল্যাব অনুযায়ী করের হারও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই করমুক্ত সীমা, করযোগ্য আয় এবং চূড়ান্ত প্রদেয় কর—এই তিনটি বিষয় আলাদা করে বুঝতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে, একজন সাধারণ করদাতার বার্ষিক হিসাবযোগ্য আয় ৫ লাখ টাকা হলে এবং তাঁর জন্য করমুক্ত সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হলে, শুধু এই দুই অঙ্কের পার্থক্য দেখে চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করা যাবে না। তাঁর আয়ের ধরন, প্রযোজ্য করহার, অনুমোদিত ছাড়, উৎসে কর কর্তন এবং ন্যূনতম করের বিধানও বিবেচনা করতে হবে।
করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে কি কর দিতেই হবে?
এখানেই অনেক করদাতা ভুল করেন। করমুক্ত আয়ের সীমা অতিক্রম করলেই সব ক্ষেত্রে একই পরিমাণ কর দিতে হবে, এমন নয়। করদাতার আয়ের পরিমাণ ও ধরন অনুযায়ী কর হিসাব করতে হয়। তবে প্রযোজ্য ন্যূনতম করের বিধানও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮ করবর্ষের জন্য বাজেটসংক্রান্ত ঘোষণায় করমুক্ত সীমা অতিক্রমকারী ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম করের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। নতুন করদাতাদের জন্য ন্যূনতম কর ১ হাজার টাকা নির্ধারণের কথাও উল্লেখ রয়েছে। চূড়ান্ত হিসাবের সময় সংশ্লিষ্ট করবর্ষের কার্যকর আইন, নির্দেশিকা ও প্রযোজ্য শর্ত অনুসরণ করতে হবে।
এ কারণে করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলেও করদাতার হিসাব নিজে যাচাই করা বা প্রয়োজন হলে কর বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া ভালো।
করমুক্ত আয় থাকলেও কি আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে?
হ্যাঁ, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জমা দিতে হতে পারে। করমুক্ত আয়ের সীমার নিচে আয় থাকলেই যে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না, তা নয়। চাকরি, ব্যবসা, পূর্ববর্তী কর নির্ধারণ, নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণ কিংবা আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের অন্যান্য শর্তের কারণে রিটার্ন জমা দিতে হতে পারে।
অর্থাৎ, কর দিতে হবে কি না এবং রিটার্ন জমা দিতে হবে কি না—এ দুটি আলাদা প্রশ্ন। নিজের আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: ২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণ চাকরিজীবীর করমুক্ত আয়ের সীমা কত?
উত্তর: সাধারণ ব্যক্তি করদাতার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তবে চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়মও বিবেচনা করতে হবে।
প্রশ্ন: নারী করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা কত?
উত্তর: নারী করদাতার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
প্রশ্ন: ৬৫ বছর বয়স হলেই কি বেশি করমুক্ত সীমা পাওয়া যাবে?
উত্তর: ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতার জন্য নির্ধারিত সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বয়সের শর্ত পূরণ হলে এই শ্রেণির সীমা প্রযোজ্য হয়।
প্রশ্ন: তৃতীয় লিঙ্গের করদাতার করমুক্ত সীমা কত?
উত্তর: ২০২৬–২৭ করবর্ষে তৃতীয় লিঙ্গের করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা।
প্রশ্ন: করমুক্ত সীমার নিচে আয় হলে কি রিটার্ন জমা দেওয়া লাগবে না?
উত্তর: সব ক্ষেত্রে এমন নয়। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কারণে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে, যদিও কর পরিশোধের পরিমাণ শূন্য হয়।
শেষ কথা
২০২৬–২৭ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা করদাতার শ্রেণি অনুযায়ী ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতিবন্ধী সন্তানের বাবা-মা বা আইনানুগ অভিভাবকের জন্য শর্তসাপেক্ষে অতিরিক্ত সুবিধাও রয়েছে। তবে করমুক্ত সীমা জানাই যথেষ্ট নয়; নিজের আয়, প্রযোজ্য করহার, ন্যূনতম কর এবং রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা একসঙ্গে যাচাই করতে হবে।
সর্বশেষ নিয়ম ও নির্ভুল হিসাবের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬–২০২৭ অনুসরণ করুন।