ঢাকায় ই-রিকশার ফরম ১০০ টাকা, নিবন্ধনে মানতে হবে যেসব শর্ত
জাতীয় · 2026-11-05T14:30:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রতিটি আবেদন ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। তবে ফরম সংগ্রহ করলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না। ই-রিকশার মালিকদের বুয়েটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি অনুমোদনসহ নির্ধারিত কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে হলে নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত মানতে হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এ কার্যক্রমে প্রতিটি আবেদন ফরমের মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। নিবন্ধনের আগে ই-রিকশাকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ই-রিকশার নিবন্ধনের আবেদন ফরম বিক্রি করে ডিএসসিসি। প্রথম দিন মোট ১ হাজার ফরম বিক্রি হয়েছে। তবে ফরম সংগ্রহের ক্ষেত্রে শর্ত ছিল, একজন মালিকের একটি ই-রিকশা থাকতে হবে। একাধিক রিকশার মালিকেরা প্রথম দিনের এই কার্যক্রমে ফরম সংগ্রহের সুযোগ পাননি।
নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, সাম্প্রতিক তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ফরমের মূল ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদ জমা দিতে হবে।
তবে এসব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি ই-রিকশার কারিগরি অনুমোদনও প্রয়োজন। বুয়েটের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কারিগরি ছাড়পত্র পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করতে হবে।
প্রথম পর্যায়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার ই-রিকশাকে অনুমোদন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ২ হাজার ই-রিকশা নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ আবেদন ফরম সংগ্রহ বা আবেদন জমা দেওয়ার মাধ্যমে নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসি এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনে কতটি ই-রিকশা চলতে পারবে, তা নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন ও পুলিশের যৌথ সভায় জোনের সীমানা এবং এলাকাভিত্তিক ই-রিকশার সংখ্যা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ই-রিকশা তৈরি ও মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ এবং ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া বন্ধ করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।