ঢাকায় চালু হচ্ছে আরও একটি ই-পারিবারিক আদালত, অনলাইনেই চলবে বিচারকাজ
আইন-আদালত · 2026-10-28T08:49:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ঢাকায় আরও একটি ই-পারিবারিক আদালত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থায় অনলাইনে মামলা দায়ের, ভার্চ্যুয়াল শুনানি, সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা করা যাবে। এতে পারিবারিক মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় সময় ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঢাকায় আরও একটি ই-পারিবারিক আদালত চালু হচ্ছে। নতুন এ আদালতের মাধ্যমে অনলাইনে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে শুনানি ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করা যাবে। এতে মামলার পক্ষগুলোর আদালতে সশরীর উপস্থিতির প্রয়োজন কমবে এবং পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
ই-পারিবারিক আদালতে অনলাইনে মামলা দায়ের, ভার্চ্যুয়াল শুনানি, সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা করার ব্যবস্থা থাকবে। কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মামলার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিচারকাজ পরিচালনার ফলে কাগজের ব্যবহার ও আদালতে যাতায়াতের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম জানান, মামলা দায়ের থেকে নিষ্পত্তি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ সেবা নিতে ব্যবহারকারীদের নিবন্ধন করে নিরাপদ পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে লগইন করতে হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)কে জানান, মামলার পক্ষগুলো অনলাইন ড্যাশবোর্ডে নিজেদের মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারবেন। ফলে মামলার বিভিন্ন তথ্য জানতে বারবার আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। ডিজিটাল নথি ব্যবহারের মাধ্যমে কাগজপত্র ব্যবস্থাপনা সহজ করা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বিলম্ব কমানোও এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
এর আগে গত বছরের শেষ দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একটি করে ই-পারিবারিক আদালত চালু করা হয়েছিল। ঢাকার ই-পারিবারিক আদালত-৫-এ এখন পর্যন্ত ১৬৯টি মামলা এসেছে। এর মধ্যে আগের বছরের দুটি মামলাও রয়েছে। আদালতটি ৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে।
ই-পারিবারিক আদালতের আরেকটি সুবিধা হলো, আদালতের আদেশের সত্যায়িত কপি দ্রুত পাওয়া। প্রচলিত পদ্ধতিতে এ ধরনের কপি পেতে সাধারণত সাত থেকে ১০ দিন অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ই-পারিবারিক আদালতে অল্প ফি দিয়ে তা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ফি সরকারি কোষাগারে জমা হয় এবং কপির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কিউআর কোড ব্যবহার করা যায়।
আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয় চারজন বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামের এক হাজারের বেশি আইনজীবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি ব্যবহারে অদক্ষ বা স্মার্টফোন নেই—এমন ব্যক্তিদের জন্যও সহায়তার ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে তাঁরা আইনি সহায়তাকারী আইনজীবীদের সাহায্য নিতে পারবেন। পাশাপাশি নারী ও শিশুর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় নির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে ইন্টার্ন নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে মন্ত্রণালয়ের।
ই-পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে পারিবারিক মামলা পরিচালনায় সময় ও ব্যয় কমানো, মানুষের ভোগান্তি হ্রাস এবং বিচারসেবা সহজে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস