শ্রীমঙ্গলের সময়

গ্রামেও টেলিটকের নেটওয়ার্ক উন্নয়নের আশা, চালু হচ্ছে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড

প্রযুক্তি · 2026-10-28T08:30:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ফোর-জি সেবা সম্প্রসারণের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠান জেডটিইকে কার্যাদেশ দিয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত তথ্যে ২৫টি সাইটে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ রয়েছে। কম ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ বেশি দূরত্বে পৌঁছানো ও ভবনের ভেতরে সংযোগ উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে নতুন সেবা চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়।

টেলিটক সিম ব্যবহার করেও যাঁরা গ্রামাঞ্চলে দুর্বল নেটওয়ার্ক কিংবা ঘরের ভেতরে মোবাইল সিগন্যালের সমস্যায় পড়েন, তাঁদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়ানো এবং শহরের ভবনের ভেতরে সংযোগ উন্নত করার লক্ষ্যে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ফোর-জি সেবা সম্প্রসারণের জন্য চীনা টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেডটিইকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই উদ্যোগের সুফল গ্রাহকরা কবে থেকে পাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী জেডটিইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাও জুনইয়ংয়ের হাতে ‘নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড’ বা এনওএ হস্তান্তর করেন। ‘প্রকিউরমেন্ট অব ফোর-জি অন ৭০০ মেগাহার্টজ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রকাশিত তথ্যেও টেলিটকের ২৫টি সাইটে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ফোর-জি চালুর জন্য জেডটিইকে কার্যাদেশ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ব্যবহার। মোবাইল নেটওয়ার্কে কম ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ সাধারণত তুলনামূলক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং ভবন ও দেয়াল ভেদ করে সিগন্যাল পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও সুবিধা দিতে পারে। ফলে উপযুক্ত অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা থাকলে একই ধরনের বিস্তৃত এলাকায় সংযোগ দিতে কম সংখ্যক সাইট দিয়েও সুবিধা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে বাস্তবে নেটওয়ার্কের মান নির্ভর করে ব্যবহৃত স্পেকট্রামের পরিমাণ, টাওয়ারের অবস্থান, সাইটের সক্ষমতা, ব্যবহারকারীর চাপ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ের ওপর।

টেলিটকের জন্য এই ব্যান্ডের ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে। অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের সিগন্যাল দুর্বল হওয়া, ঘরের ভেতরে কথা বলার সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যার মতো অভিজ্ঞতা রয়েছে গ্রাহকদের। নতুন ব্যান্ডে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকার কিছু গ্রাহক উন্নত সংযোগের সুবিধা পেতে পারেন। একইভাবে শহরের ভবনের ভেতরে সিগন্যালের মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড চালু হলেই সব এলাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নেটওয়ার্কের বাস্তব মান নির্ভর করবে কোথায় কতটি সাইটে যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হচ্ছে, সেগুলো কখন চালু হচ্ছে এবং বিদ্যমান নেটওয়ার্কের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে তার ওপর। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত কার্যাদেশসংক্রান্ত তথ্যে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সেবা চালুর নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। ফলে টেলিটকের সব গ্রাহক কবে থেকে নতুন সুবিধা পাবেন, তা জানতে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও বাস্তবায়নের অগ্রগতির দিকে নজর রাখতে হবে।

টেলিটক বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর। সরকারি মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। নেটওয়ার্কের পরিধি ও মান উন্নত করা হলে শুধু সাধারণ ফোনকল বা ইন্টারনেট ব্যবহার নয়, অনলাইন শিক্ষা, ডিজিটাল সেবা, দূরবর্তী এলাকার যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ইন্টারনেটভিত্তিক কাজেও সুবিধা হতে পারে। তবে এসব সুবিধা বাস্তবে কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলাফলের ওপর।

গ্রাহকদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন নেটওয়ার্ক চালু হলেও সবার সিম বা মোবাইল ফোনে একই অভিজ্ঞতা নাও হতে পারে। টেলিটকের ফোর-জি সেবা ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত ফোর-জি সমর্থিত হ্যান্ডসেট, প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত সিম এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ফোর-জি কাভারেজ থাকা দরকার। গ্রাহকরা টেলিটকের সরকারি ওয়েবসাইটে সিম ও ফোর-জি সেবা-সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং নেটওয়ার্ক কাভারেজের তথ্য দেখতে পারেন। নতুন ব্যান্ডে সেবা চালু হলে সেটি ব্যবহারের জন্য কোনো অতিরিক্ত সেটিংস, সিম পরিবর্তন বা বিশেষ শর্ত প্রয়োজন হবে কি না, সে বিষয়ে অপারেটরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করাই ভালো।

সব মিলিয়ে, টেলিটকের ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ফোর-জি সম্প্রসারণের জন্য জেডটিইকে কার্যাদেশ দেওয়া নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার সংযোগ উন্নত করা এবং শহরের ভবনের ভেতরে সিগন্যালের মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে প্রকৃত সুফল পেতে হলে যন্ত্রপাতি স্থাপন, নেটওয়ার্ক চালু এবং কাভারেজ সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হতে হবে। তাই গ্রাহকদের এখন নজর রাখা উচিত টেলিটকের পরবর্তী ঘোষণা, সেবা চালুর সময়সূচি এবং নিজ এলাকায় নেটওয়ার্ক উন্নয়নের অগ্রগতির দিকে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত