শ্রীমঙ্গলের সময়

সাদমানের সেঞ্চুরির অপেক্ষায় বাংলাদেশ, হঠাৎ বন্ধ খেলা

খেলা · 2026-10-28T10:15:04.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম টেস্টে খারাপ আলোর কারণে বন্ধ হয়ে গেছে খেলা। দিনের তৃতীয় সেশনে আকাশের পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাবে আম্পায়াররা খেলা স্থগিত রাখেন। খেলা বন্ধ হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৭০ ওভারে তিন উইকেটে ২০৭ রান। একদিকে সূর্যের আলো দেখা গেলেও অন্যদিকে ঘন কালো মেঘ জমে থাকায় মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফ্লাডলাইট আবার চালু করা হলেও খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। বিরতির আগে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন ওপেনার সাদমান ইসলাম।

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই স্বাগতিক দলের লক্ষ্য ছিল উইকেট ধরে রেখে ধীরে ধীরে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাওয়া। তবে ইনিংসের শুরুতে তানজিদ হাসান ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। জাস্টিন গ্রিভসের বলে জেইডেন সিলসের হাতে ক্যাচ দিয়ে তাঁর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। এরপর মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দলের রান এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা নিয়মিত চাপ বজায় রাখেন। ফলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য রান তোলা সহজ ছিল না। তিনটি উইকেট হারালেও সাদমানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দল লড়াই চালিয়ে যায়।

বাংলাদেশের ইনিংসে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি ছিল মুমিনুল হকের। তিনি ৫১ বল মোকাবিলা করে ২৮ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার। শামার জোসেফের বলে জোমেল ওয়ারিকানের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি মাঠ ছাড়েন। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। ৪২ বলে ১৯ রান করে তিনি জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন। শান্তর ইনিংসে ছিল একটি চার। পরপর গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়লেও সাদমান ইসলাম ক্রিজে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেন। তাঁর সঙ্গে তাওহীদ হৃদয় ও পরে লিটন দাসের ব্যাটিং বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।

দিনের খেলায় সাদমান ইসলামের ব্যাটিং ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। খেলা বন্ধ হওয়ার সময় তিনি ২০৮ বল মোকাবিলা করে ১০টি চারের সাহায্যে ৯৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য, মনোযোগ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী রান সংগ্রহের চেষ্টা। ব্যক্তিগত শতক থেকে মাত্র চার রান দূরে থাকায় খেলা পুনরায় শুরু হলে তাঁর সামনে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক অর্জনের সুযোগ থাকবে। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মোকাবিলা করেছেন। বাংলাদেশের ইনিংসকে স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি বড় সংগ্রহের সম্ভাবনাও জিইয়ে রেখেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর শতক পূর্ণ করার অপেক্ষা এখন সমর্থকদের আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

বাংলাদেশের ইনিংসে তাওহীদ হৃদয়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ৮৪ বল খেলে ৪২ রান করার পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার। হৃদয়ের ব্যাটিং বাংলাদেশের রান বাড়াতে সহায়তা করেছে এবং মধ্যভাগে দলকে কিছুটা স্থিতি দিয়েছে। অন্যদিকে লিটন দাস সাত রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। তিনি ১৫ বল মোকাবিলা করে একটি চার মেরেছেন। খেলা বন্ধ হওয়ার সময় সাদমান ও লিটন ক্রিজে ছিলেন। বাংলাদেশের হাতে তখনও সাতটি উইকেট অবশিষ্ট ছিল। ফলে খেলা পুনরায় শুরু হলে এই জুটি থেকে আরও রান পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে হৃদয় আবার ব্যাটিংয়ে ফিরতে পারবেন কি না, সেটিও দলের পরবর্তী পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে জোমেল ওয়ারিকান সবচেয়ে সফল ছিলেন। তিনি ১২ ওভার বল করে ৩১ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে জেইডেন সিলস আট ওভারে ১৪ রান দিয়ে একটি উইকেট পেয়েছেন। শামার জোসেফ নয় ওভারে ২৪ রান দিয়েছেন। রোস্টন চেজ ১৩ ওভারে ৫৩ রান খরচ করেছেন। জাস্টিন গ্রিভস ১০ ওভারে ৩০ রান এবং জাস্টিন বিশপ ১৮ ওভারে ৫০ রান দিয়েছেন। বাংলাদেশের ব্যাটারদের বড় জুটি গড়ার পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা কয়েকবার সফল হলেও সাদমানের উইকেট নিতে পারেননি। খেলা পুনরায় শুরু হলে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়াই হবে সফরকারীদের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশ চাইবে বাকি উইকেট কাজে লাগিয়ে সংগ্রহ বাড়াতে।

টেস্ট ক্রিকেটে খারাপ আলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ ব্যাটার ও ফিল্ডারদের জন্য বলের গতিপথ স্পষ্টভাবে দেখা প্রয়োজন। আকাশে মেঘ জমে প্রাকৃতিক আলো কমে গেলে আম্পায়াররা মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনা করে খেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই ম্যাচেও ফ্লাডলাইট চালু করা হলেও খেলা শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নির্ভর করছিল মাঠের আলোর অবস্থার ওপর। বাংলাদেশের সামনে এখন প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সাদমান ইসলামের শতক পূর্ণ করা এবং লিটন দাসের সঙ্গে তাঁর জুটি এগিয়ে নেওয়া দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কখন খেলা আবার শুরু হবে, তা নির্ভর করছে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর। আপাতত ২০৭ রানে তিন উইকেট নিয়ে অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত