শ্রীমঙ্গলের সময়

পর্যটন নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ

সারাদেশ · 2026-10-28T15:58:00.000000Z · সিনিয়র রিপোর্টার

 দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, পর্যটকসেবার মানোন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। বাহিনীটির নিজস্ব ভবন নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।
বাংলাদেশ পুলিশের ১৫তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা জি এম আজিজুর রহমান দীর্ঘ কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার অধ্যক্ষ ছিলেন। এর আগে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও ডেপুটি চিফ কমিউনিকেশন মো. বেল্লাল হাওলাদার। সাক্ষাৎকালে দেশের পর্যটন নিরাপত্তা, ট্যুরিস্ট পুলিশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পর্যটকসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
বর্তমানে রাজধানীর ফারইস্ট টাওয়ারের অষ্টম, নবম ও দশম তলায় ভাড়া কার্যালয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাহিনীটির নিজস্ব ভবন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জি এম আজিজুর রহমান জানান, এ লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন। নিজস্ব ভবন প্রতিষ্ঠিত হলে বাহিনীর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
আলোচনায় দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নারী ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন মো. বেল্লাল হাওলাদার। বিশেষ করে কুয়াকাটাসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে নারী পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মত দেন। নারী পর্যটকদের নিরাপত্তা, জরুরি সহযোগিতা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে সাগরের ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিলুপ্ত হওয়া ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সমুদ্রের ঢেউ ও প্রাকৃতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সৈকতের উপযুক্ত ও নিরাপদ স্থানে টেকসই পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান বেল্লাল হাওলাদার। এতে দায়িত্বরত সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং পর্যটকদের জরুরি সহায়তা প্রদান আরও সহজ হবে।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সিলেটের জাফলংসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবায় দায়িত্ব পালন করে ইতোমধ্যে সুনাম অর্জন করেছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রদান এবং পর্যটনকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাহিনীটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটনশিল্পের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা গেলে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল, নদী, হাওর ও ঐতিহাসিক স্থাপনাসহ নানা আকর্ষণীয় গন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব স্থানে পর্যটকদের নিরাপত্তা, তথ্যসহায়তা, জরুরি সেবা এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত জনবল, প্রশিক্ষণ, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং পর্যটনকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা গেলে দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশ আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত