গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত
সারাদেশ · 2026-11-06T16:24:00.000000Z · মোঃ সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াডের বরিশাল অঞ্চল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ গণিত সমিতি ও এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ব্যবস্থাপনায় এই আয়োজন করা হয়।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান।আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের প্রতিযোগিতার জন্য সারা দেশকে ৮টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের আয়োজক ছিল গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বরিশাল অঞ্চলের এই পর্বে ১১টি জেলার ৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৫টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৭টি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অনলাইনে মোট ১৪০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিলেন।উদ্বোধনের পর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে অলিম্পিয়াডের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। খাতা মূল্যায়ন শেষে একই দিন বিকেল ৩টায় জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।বরিশাল অঞ্চলের এই গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজনে কনভেনরের দায়িত্ব পালন করেন গোবিপ্রবি গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মিনারুল ইসলাম।উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ গণিত সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহতাব উদ্দিন আহাম্মদ, উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহানশাহ্ খান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. বিজন কৃষ্ণ সাহা, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন এবং সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক গৌতম কুমার সাহা।আয়োজন সফল করার বিষয়ে গণিত অলিম্পিয়াডের কনভেনর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মিনারুল ইসলাম বলেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই আয়োজনে সবার স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা পেয়েছি। আশা করছি, এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামীতে আরও বড় পরিসরে আমরা এমন গণিত উৎসবের আয়োজন করতে পারব।"উদ্বোধক অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান বাংলাদেশ গণিত সমিতি ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "মেধার বিকাশের জন্য গণিত চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার অন্যতম সেরা প্ল্যাটফর্ম এই গণিত অলিম্পিয়াড। এর মাধ্যমেই জাতীয় পর্যায়ে সেরা মেধাবীদের বাছাই করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য দেশের প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়। দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে গণিতের আলোড়ন সৃষ্টিতে এই অলিম্পিয়াড অনবদ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।"