ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ী মানিক হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন
সারাদেশ · 2026-11-04T17:41:00.000000Z · সিনিয়র রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া হত্যা মামলায় বাবা ও তাঁর দুই ছেলেকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক অসীম কুমার দে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।যাঁদের সাজা হয়েছে:যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের মোতাহার মিয়া এবং তাঁর দুই ছেলে মনির মিয়া ও কামাল মিয়া। রায় ঘোষণার সময় কেবল কামাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন; পরে তাঁকে পুলিশ প্রহরায় কারাগারে পাঠানো হয়। অপর দুই আসামি মোতাহার মিয়া ও মনির মিয়া পলাতক রয়েছেন।অন্যদিকে, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর ছয় আসামি—রুবেল মিয়া, শরীফ মিয়া, মনোয়ারা বেগম, মোছা. জিয়াসমিন, খাদিজা বেগমসহ ছয়জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।মামলার পটভূমি:মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মানিক মিয়া কসবার নিমবাড়ি এলাকার একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রতিবেশী মনির মিয়ার সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে প্রায়ই দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতো।এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে টাকার বিষয়ে আলোচনার কথা বলে মানিক মিয়াকে ঘর থেকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর মনির মিয়াসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা মানিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।বিচার প্রক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া:এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হেলেনা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কসবা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের নভেম্বরে পুলিশ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার-ই-আলম বলেন, "আমরা আশা করেছিলাম সব আসামি বেকসুর খালাস পাবেন। এই রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ, তাই উচ্চ আদালতে আপিল করব।"অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "বাদীপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদেরই সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।"