আজ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস, যে ৩ লক্ষণ দেখলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে
স্বাস্থ্য · 2026-10-29T03:52:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত দুর্বল হওয়া ও কথা জড়িয়ে যাওয়া, এই তিনটি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। লক্ষণ সেরে গেলেও চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়।
হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া কিংবা এক হাত দুর্বল হয়ে পড়া—এসব লক্ষণ স্ট্রোকের সতর্কসংকেত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। কারণ, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা মস্তিষ্কের ক্ষতি কমাতে এবং জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আজ ২৯ অক্টোবর, বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, এর লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে যথাসময়ে চিকিৎসার আওতায় আনার গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালিত হয়। এবারের আলোচনায়ও স্ট্রোকের লক্ষণ চেনা ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
স্ট্রোক হয় যখন মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় অথবা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। এতে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্ব স্ট্রোক সংস্থার ২০২৬ সালের প্রচারাভিযানের মূল বার্তা ‘Every M1nute Counts’—অর্থাৎ, প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটি স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।
স্ট্রোকের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ সহজে মনে রাখতে মুখ, হাত ও কথার পরিবর্তন খেয়াল করা যায়। প্রথমত, হঠাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে যেতে পারে বা হাসতে বললে হাসি অসমান দেখাতে পারে। দ্বিতীয়ত, দুই হাত তুলতে বললে একটি হাত দুর্বল হয়ে নিচে নেমে যেতে পারে। তৃতীয়ত, কথা জড়িয়ে যেতে পারে, কথা বুঝতে অসুবিধা হতে পারে কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তি ঠিকমতো কথা বলতে নাও পারেন। এসব লক্ষণ হঠাৎ দেখা দিলে স্ট্রোকের আশঙ্কা ধরে নিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
এ ছাড়া হঠাৎ ভারসাম্য হারানো, হাঁটতে অসুবিধা, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন, শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা অজানা কারণে তীব্র মাথাব্যথাও স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। সবার ক্ষেত্রে সব লক্ষণ দেখা যায় না। তাই তিনটি পরিচিত লক্ষণের বাইরে অন্য আকস্মিক পরিবর্তনও অবহেলা করা ঠিক নয়।
লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। কখন লক্ষণ শুরু হয়েছে, সেই সময়টি মনে রাখুন বা লিখে রাখুন—চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত নিতে এটি সহায়ক হতে পারে। লক্ষণ কয়েক মিনিটের মধ্যে সেরে গেলেও নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না; এটি সাময়িক রক্তপ্রবাহের সমস্যার সংকেত হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া নিজে থেকে অ্যাসপিরিন বা অন্য ওষুধ খাওয়ানোও উচিত নয়, কারণ স্ট্রোকের কারণ রক্তনালি বন্ধ হওয়া নাকি রক্তক্ষরণ—তা পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায় না।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলেও স্ট্রোক হতে পারে। তাই লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।
বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের বার্তা শুধু একটি দিনের সচেতনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও আশপাশের মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা ছড়িয়ে দিলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সহজ হতে পারে। মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত দুর্বল হয়ে পড়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা নয়—দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।