শ্রীমঙ্গলের সময়

১৮ কোটি টাকার এমআরআই মেশিন কিনেও লাভ হলো না কেন? যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য · 2026-10-28T14:59:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

খুলনায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা একটি চিকিৎসা যন্ত্র পড়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল প্রস্তুত না করেই যন্ত্রটি কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে যন্ত্রটির সুনির্দিষ্ট ধরন ও বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

খুলনায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা একটি চিকিৎসা যন্ত্র পড়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল প্রস্তুত না করেই যন্ত্রটি কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, এখন সেটি বিক্রি করে বাদাম খেতে হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মোবাইল হেলথ ক্লিনিকের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন রেডিওথেরাপির মেশিন আনছি। এজন্য লোকবল আগেই প্রস্তুত করে ফেলেছি। কিন্তু তারা (আওয়ামী লীগ) সেটা করেনি। খুলনায় ফেলে রেখেছে ১৮ কোটি টাকার মেশিন। বাংকার ছাড়া এমআরআই হয় না। বাংকার নাই, অথচ মেশিন কিনেছে টাকা খাওয়ার জন্য। সেই মেশিন এখন ভাঙারি বোর্ড। বাদাম খেতে হবে বিক্রি করে।’

স্বাস্থ্য খাতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগও করেন তিনি। মন্ত্রীর দাবি, প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করেই বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল। ফলে সেগুলো রোগীদের চিকিৎসায় কাজে লাগানো যায়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার পর্যাপ্ত নার্স নিয়োগ দেয়নি, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেনি এবং হাসপাতালের শয্যাসংখ্যাও প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ায়নি। লোকবল না থাকা সত্ত্বেও যন্ত্রপাতি কেনার কারণে সেগুলো পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ডায়ালাইসিস মেশিনের সংখ্যা বাড়ানোর কাজ চলছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে ধাপে ধাপে এসব কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কসবা ও আখাউড়া উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য শক্তি ফাউন্ডেশন ও রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে মোবাইল হেলথ ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কসবা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ ও পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ফাহিম।

তবে খুলনায় পড়ে থাকা ১৮ কোটি টাকার যন্ত্রটির সুনির্দিষ্ট ধরন, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের নাম এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। যন্ত্রটি এমআরআই, নাকি রেডিওথেরাপির যন্ত্র—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত