সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলা, ২০ আইএস সদস্য নিহতের দাবি
বিশ্ব · 2026-10-27T16:42:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ২০ জনের বেশি সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে জর্ডান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চালানো এসব হামলায় সাতজন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে জর্ডান। তবে হামলার আগে দামেস্কের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
জর্ডানের দাবি: মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জর্ডানের সরকারি যোগাযোগমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-মুমানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে চালানো অভিযানে আইএসের ২০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি বড় অস্ত্রভান্ডারও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জর্ডানের ভাষ্য, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার হুমকি মোকাবিলায় এ অভিযান চালানো হয়। বেসামরিক মানুষের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে, এমন স্থানে হামলা এড়িয়ে চলা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে দেশটি।
সিরিয়ার বক্তব্য: সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জর্ডানের বিমান হামলায় সাতজন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচজন রয়েছেন। এ ছাড়া আরও দুজন বয়স্ক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে। হামলায় হতাহতের ঘটনা তদন্ত করছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আগাম সমন্বয় বা বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই দেশটির ভূখণ্ডে এ অভিযান চালানো হয়েছে। দামেস্কের ভাষ্য, এ ধরনের হামলা সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। অন্যদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সিরিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করেই অভিযান চালানো হয়েছে। দুই দেশের বক্তব্যে এই মতপার্থক্যের পরও সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে যৌথ নিরাপত্তা কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে সিরিয়া।
গির্জায় হামলার জেরে অভিযান: গত সপ্তাহে জর্ডানের কারাক অঞ্চলে একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় হামলায় নয়জন নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও অনেকে আহত হন। জর্ডানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে দুই ভাই ও তাঁদের ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সীমান্তের ওপারে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেছে জর্ডান। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী গির্জায় হামলার দায় স্বীকার করেনি।
জর্ডান বলেছে, সিরিয়ায় হামলার লক্ষ্য ছিল আইএসের অবস্থান ও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করা। তবে হামলায় নিহত ব্যক্তিরা কারা এবং তাঁদের সঙ্গে আইএসের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, সে বিষয়ে জর্ডানের দাবি ও সিরিয়ার দেওয়া হতাহতের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের ফল এবং দুই দেশের নিরাপত্তা সমন্বয় পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আল জাজিরা