শ্রীমঙ্গলের সময়

এক শহরে যুদ্ধবিরতি, অন্যত্র রাশিয়া-ইউক্রেনের হামলা অব্যাহত

বিশ্ব · 2026-10-27T15:29:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া ও বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে স্থানীয় পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি শুরু করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উভয় পক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এই সমঝোতা পুরো যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর হয়নি। রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা অব্যাহত রয়েছে, ঘটেছে হতাহতের ঘটনাও। খবর রয়টার্সের।

দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসান অঞ্চলে নিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ওলেশকি শহরে খাদ্য, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে শহরটির বাসিন্দাদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় যুদ্ধবিরতির ফলে সেখানে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং যারা চলে যেতে চান, তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করল দুই পক্ষ: ইউক্রেনের পার্লামেন্টের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার ও আলোচক দলের প্রধান দিমিত্রো লুবিনেৎস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইউক্রেনীয় পক্ষ সমঝোতা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, মানবিক কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে মস্কোর স্থানীয় সময় ভোর ৪টা থেকে খেরসান শহরের দিকে গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখা হয়েছে। ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা খেরসান শহরটি নিপ্রো নদীর অপর তীরে অবস্থিত।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে এ সমঝোতা হয়েছে। ওলেশকিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়। মানবিক কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

কিয়েভে হামলা ও হতাহতের খবর: ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্যান্য এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স জানায়, কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত হন। আহতদের মধ্যে একটি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীতে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী।

কিয়েভের পরিবহন অবকাঠামো, সাউদার্ন ব্রিজ ও মেট্রো-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও এসেছে। এ ছাড়া খারকিভ ও পাভলোহ্রাদ এলাকায় হামলায় হতাহতের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী কিয়েভের পরিবহন অবকাঠামো, খারকিভ অঞ্চলের একটি রসদ সরবরাহকেন্দ্র এবং কয়েকটি শিল্প ও পরিবহন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। মস্কোর দাবি, এসব স্থাপনা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে এসব দাবির সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

রাশিয়ার ভূখণ্ডেও হামলা: ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলায় হতাহত হওয়ার খবর দিয়েছে স্থানীয় কর্মকর্তারা। একইভাবে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি বাসে ড্রোন আঘাত হানার ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে চলমান হামলায় আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

শান্তি আলোচনায় নতুন উদ্যোগ: ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর প্রথম দিকেই ওলেশকি দখলে নেয় রুশ বাহিনী। এরপর থেকে শহরটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে শহরটিতে মানবিক সংকট তীব্র হওয়ায় স্থানীয় যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, যুদ্ধের অবসানে শান্তিচুক্তির পথ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা চলছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিন দেশের প্রতিনিধিরা নভেম্বরের প্রথমার্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন।

একদিকে ওলেশকিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য যুদ্ধবিরতি, অন্যদিকে বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা অব্যাহত থাকা—দুই দেশের সংঘাতের জটিল পরিস্থিতিই তুলে ধরছে। স্থানীয় সমঝোতা শহরটির বাসিন্দাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে, তবে তা বৃহত্তর যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স,

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত