শ্রীমঙ্গলের সময়

জানুয়ারি থেকে বাড়িভাড়া বাড়ানোর নোটিশ, ভাড়াটিয়াদের নতুন দুশ্চিন্তা

জাতীয় · 2026-10-30T08:45:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগামী জানুয়ারি থেকে বাড়িভাড়া বাড়ানোর নোটিশ পাওয়ার কথা জানাচ্ছেন ভাড়াটিয়ারা। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোথাও মাসে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য নতুন ভাড়া বাড়তি আর্থিক উদ্বেগ তৈরি করছে।

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, সন্তানের পড়াশোনার খরচ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে অনেক পরিবার। এর মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বাড়িভাড়া বাড়ানোর নোটিশ পাওয়ার কথা জানাচ্ছেন ভাড়াটিয়ারা। কারও কাছে জানানো হচ্ছে মাসে দুই হাজার টাকা বেশি দিতে হবে, আবার কারও ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়ার পরিমাণ তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা। আগামী জানুয়ারি থেকে ভাড়া কার্যকর করার কথা উল্লেখ করে দেওয়া এসব নোটিশে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর মধ্যে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের অভিজ্ঞতা সেই উদ্বেগেরই একটি উদাহরণ। একটি বেসরকারি বিপণন প্রতিষ্ঠানে সাত বছর ধরে চাকরি করছেন তিনি। তাঁর মাসিক বেতন ৪০ হাজার টাকা, যা গত দুই বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন। অথচ সংসারের খরচ বেড়েছে নানা দিক থেকে। চালের দাম বৃদ্ধি, সন্তানের স্কুলের বেতন এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে বাড়িভাড়া বাড়ানোর নোটিশ। বাড়িওয়ালার দেওয়া নোটিশে আগামী জানুয়ারি থেকে মাসিক ভাড়া তিন হাজার টাকা বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।

রফিকুলের মতো অনেক ভাড়াটিয়ার জন্য বাড়িভাড়া বৃদ্ধি মানে মাসিক বাজেটে নতুন চাপ। কারণ বেতন বা আয়ের পরিমাণ একই থাকলেও বাসাভাড়া, খাবার, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াতের মতো খাতে ব্যয় বাড়তে থাকলে সংসারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য হঠাৎ কয়েক হাজার টাকা বাড়তি ভাড়া বহন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাজধানীর মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ভাড়াটিয়াদের মধ্যে জানুয়ারি থেকে ভাড়া বাড়ানোর আলোচনা চলছে বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়। কয়েকজন ভাড়াটিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িওয়ালারা নতুন ভাড়ার কথা জানিয়ে নোটিশ দিচ্ছেন। এসব ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়ার পরিমাণ দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারও কারও হিসাবে আগের ভাড়ার তুলনায় বৃদ্ধি ১৫ থেকে ২০ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে। তবে এই হার রাজধানীর সব এলাকার বা সব বাসার জন্য প্রযোজ্য—এমন কোনো সমন্বিত তথ্য এখানে নেই।

ভাড়াটিয়াদের উদ্বেগের একটি বড় কারণ হলো, আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা। মাসের শুরুতেই বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেট ও সন্তানের শিক্ষার খরচ মেটাতে হয়। এরপর বাজারসদাই, চিকিৎসা ও যাতায়াতের ব্যয় রয়েছে। এসব খাতে আগে থেকেই চাপ থাকলে নতুন করে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি পরিবারের সঞ্চয় কমিয়ে দিতে পারে। কোনো কোনো পরিবারকে বাড়তি ভাড়া সামলাতে অন্য খরচ কমানো কিংবা তুলনামূলক কম ভাড়ার বাসা খোঁজার সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে।

তবে বাড়িওয়ালার পক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর নোটিশ দেওয়া হলেই তা সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা উভয়েরই চুক্তির শর্ত এবং প্রযোজ্য আইন সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। ভাড়ার পরিমাণ, বৃদ্ধির সময় ও পদ্ধতি নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে লিখিত চুক্তি, ভাড়ার রসিদ এবং নোটিশের কপি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রাজধানীতে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির এই প্রবণতা কতটা বিস্তৃত, কোন এলাকায় গড়ে কত শতাংশ ভাড়া বাড়ছে এবং বাড়িওয়ালারা কী যুক্তিতে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করছেন—তা জানতে আরও তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন। আপাতত জানুয়ারি থেকে ভাড়া বাড়ানোর নোটিশ পাওয়া পরিবারগুলোর কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বাড়তি এই ব্যয় কীভাবে সামলাবেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত