নভেম্বর থেকে টিসিবিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন পণ্য,যে সকল পণ্য যুক্ত হচ্ছে
অর্থনীতি · 2026-10-30T08:31:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ভোক্তাদের জন্য পণ্যের পরিসর বাড়াতে নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রির পরিকল্পনা করেছে টিসিবি। এর আগে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু করেছে সংস্থাটি। বাণিজ্যিক পণ্যের গ্রাহকসংখ্যা বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
ভোক্তাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিসর বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আগামী নভেম্বর থেকে সংস্থাটির বাণিজ্যিক পণ্য তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা। তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে এসব পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা করছে সরকারি এই সংস্থা। এর ফলে টিসিবির মাধ্যমে চালু থাকা প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি দৈনন্দিন রান্না ও ব্যবহারের আরও কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সুযোগ পাবেন ভোক্তারা।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ নতুন পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ভোক্তাদের কাছে পণ্যের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি সংস্থার নিজস্ব আয় বাড়ানো এবং সরকারের ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। নভেম্বর থেকে হলুদ ও মরিচের গুঁড়া এবং চা বিক্রি শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পণ্য বাজারে আনার অনুমোদনও ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।
টিসিবি আগে থেকেই ভর্তুকিমূল্যে তেল, ডাল ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে আসছে। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে নতুন পণ্য বিক্রির উদ্যোগও নিয়েছে সংস্থাটি। সেই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু হয়েছে। এবার মসলা ও চা যুক্ত হলে টিসিবির পণ্য তালিকা আরও বিস্তৃত হবে। পর্যায়ক্রমে আটা বাজারে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি বাজারের চাহিদা যাচাই করে ভবিষ্যতে আরও পণ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নতুন পণ্য যুক্ত করার পেছনে শুধু ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ নয়, টিসিবির আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে সরকারের ভর্তুকির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হবে। টিসিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করেছে সংস্থাটি। এই আয় ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন পণ্য বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে টিসিবির। বর্তমানে বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে সংস্থাটি। চলতি অর্থবছরে এই সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভার এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারলে টিসিবির প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য হিসাব, নিশ্চিত আয় নয়।
নতুন পণ্য যুক্ত হওয়ার খবরে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য কেনা গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রচলিত পণ্যের দাম বাড়ছে কি না। টিসিবি চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক পণ্যের তালিকা বাড়ানোর কারণে তেল, ডাল ও চিনির মতো ভর্তুকির পণ্যের নির্ধারিত দামে কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই। এসব পণ্য আগের নির্ধারিত দামেই বিক্রি অব্যাহত থাকবে। নতুন পণ্য কেনা বাধ্যতামূলকও হবে না; ভোক্তারা নিজেদের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী সেগুলো কিনতে পারবেন। নতুন পণ্যগুলোও প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় কমাতে টিসিবি পণ্য সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন এনেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তুলনামূলক কম সুদের ব্যাংকসেবা গ্রহণ, এপিআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা এবং আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো অর্থায়ন, পরিবহন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় কমানো।
পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহের বিষয়ে টিসিবি জানিয়েছে, এসব পণ্য সারা বছর নিয়মিত কেনা হয় না। বাজারের পরিস্থিতি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রয়োজন বিবেচনা করে পণ্য দুটি সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় নতুন করে পেঁয়াজ কেনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সব মিলিয়ে নতুন পণ্য যুক্ত করার মাধ্যমে টিসিবি একদিকে ভোক্তাদের জন্য কেনাকাটার সুযোগ বাড়াতে চায়, অন্যদিকে বাণিজ্যিক আয় বাড়িয়ে আর্থিকভাবে আরও সক্ষম হতে চায়। তবে নভেম্বর থেকে নতুন পণ্য বিক্রি শুরু হলে সেগুলোর নির্দিষ্ট দাম, প্যাকেটের পরিমাণ এবং বিক্রির কেন্দ্র সম্পর্কে ভোক্তাদের আগ্রহ থাকবে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ হলে ক্রেতারা কেনাকাটার আগে তা জেনে নিতে পারবেন।