শ্রীমঙ্গলের সময়

সরকারি বাসা ভাড়া বা সাবলেট দিলে বরাদ্দ বাতিল, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটে সরানোর নির্দেশ

জাতীয় · 2026-10-30T08:40:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

সরকারি আবাসন বরাদ্দ নিয়ে নিজেরা বসবাস না করে বাসা বা ফ্ল্যাট ভাড়া কিংবা সাবলেট দিয়েছেন—এমন চাকরিজীবীদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। এরপরও অনিয়ম পাওয়া গেলে বরাদ্দ বাতিলের পাশাপাশি শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অফিসপ্রধান ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হবে।

সরকারি আবাসন বরাদ্দ নিয়ে নিজেরা বসবাস না করে অন্যকে ভাড়া বা সাবলেট দিয়েছেন—এমন সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটে থাকা ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। একই সঙ্গে যে কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নামে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাঁকেই ওই বাসায় বসবাস করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরও কোনো সরকারি ফ্ল্যাটে ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাদ্দ বাতিলের পাশাপাশি শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। পরিদপ্তরের আওতাধীন সব সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে সরকারি আবাসন বরাদ্দের নিয়ম লঙ্ঘন করে বাসা বা ফ্ল্যাট অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়ার একাধিক ঘটনা উঠে এসেছে।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোনো কোনো সরকারি চাকরিজীবী তাঁদের নামে বরাদ্দ করা বাসায় নিজে বসবাস করছেন না। বরং বাসার একটি কক্ষ, একাধিক কক্ষ কিংবা পুরো ফ্ল্যাট অন্য ব্যক্তির কাছে ভাড়া বা সাবলেট দিয়েছেন। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থী। সরকারি আবাসন ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া দিয়ে আয় করার সুযোগ নেই; বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিজের বসবাসের জন্যই এ সুবিধা দেওয়া হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, নিজের নামে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বাসার সম্পূর্ণ অংশ কিংবা আংশিক অংশ—একটি বা একাধিক কক্ষ—কোনোভাবেই অন্যের কাছে ভাড়া বা সাবলেট দেওয়া যাবে না। যাঁরা ইতিমধ্যে এ নিয়ম ভঙ্গ করে বাসা ভাড়া দিয়েছেন, তাঁদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতাদের সরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দপ্রাপক কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে নিজে ওই বাসায় অবস্থান ও বসবাস করতে হবে।

নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটে কোনো ভাড়াটে কিংবা সাবলেটগ্রহীতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনো কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২ অনুসারে তাঁর বাসার বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুধু বরাদ্দ বাতিলেই ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালার ১৪(৩) বিধি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হবে। ওই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে। ফলে সরকারি বাসা ভাড়া বা সাবলেট দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আবাসন সুবিধা হারানোর পাশাপাশি চাকরিসংক্রান্ত বিভাগীয় ব্যবস্থার মুখেও পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আজিমপুর, মতিঝিল, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অধীনে ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব বাসা যাঁদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কেউ কেউ সেখানে বসবাস না করে অন্য ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চলে আসার অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বরাদ্দের শর্ত মেনে প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপকের বসবাস নিশ্চিত করতে পরিদপ্তর নতুন করে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিবদের জন্য ১১৪টি সচিব নিবাস এবং ৭৯টি বাংলো রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আলাদা শ্রেণিতে বাসা ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ রয়েছে। গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ৫৫৮টি সুপিরিয়র শ্রেণির বাসা, গ্রেড-৫ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯৯টি এবং গ্রেড-৬ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯০টি বাসা রয়েছে। গ্রেড-৭ থেকে ৯-এর জন্য ২ হাজার ৬৩২টি এবং গ্রেড-১০ থেকে ১২-এর জন্য রয়েছে ৪ হাজার ৮৯০টি বাসা। শুধু গ্রেড-৯ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ৭৭৫টি ফ্ল্যাট।

কর্মচারীদের জন্যও বিভিন্ন গ্রেড অনুযায়ী আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। ১২ ও ১৩ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১ হাজার ৮৪টি, ১৪ ও ১৫ গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৫৭৪টি, ১৬ ও ১৭ গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৫১৩টি এবং ১৮ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ২ হাজার ৬১টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের এই নির্দেশনার ফলে যেসব সরকারি চাকরিজীবী বরাদ্দ পাওয়া বাসা অন্যের কাছে ভাড়া বা সাবলেট দিয়েছেন, তাঁদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩১ অক্টোবরের পর পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়লে বাসার বরাদ্দ বাতিল, বিভাগীয় শাস্তি এবং আইনগত পদক্ষেপের ঝুঁকি তৈরি হবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত