শ্রীমঙ্গলের সময়

গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলে 'জয় বাংলা' স্লোগান: ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি প্রদান

সারাদেশ · 2026-11-05T14:07:15.000000Z · মোঃ সাইফুল ইসলাম


​গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলের ক্লাসরুমের বারান্দায় নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ায় ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে গত বুধবার রাতে যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্কুল কর্তৃপক্ষ এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেয়।
​স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোয়া. জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
​যাঁদের টিসি দেওয়া হয়েছে:
ছাড়পত্র পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলো—নবম শ্রেণির মো. আলীরাজ, শাহজালাল মুন্সি, কাজী সাইদুল ইসলাম সাইদ, শ্রান্ত মজুমদার, শেখ আব্দুল্লাহ তাসীন, রাইয়ান খান ও রিয়াজুল মুন্সি; অষ্টম শ্রেণির রেজাউল করীম এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিদ কাজী।
​ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে টিফিনের বিরতির পর স্কুলের মূল ভবনের বারান্দায় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দেয়। এ সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ এমন নানা স্লোগান দেওয়া হয়। উপস্থিত কেউ ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
​তদন্ত ও শাস্তির সিদ্ধান্ত:
ঘটনার পরদিন গত ৭ অক্টোবর স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিও পর্যালোচনা করে বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
​তদন্ত কমিটির প্রধান ও সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “ভিডিও ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান শিক্ষকের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছিল। তারই ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
​প্রধান শিক্ষক মোয়া. জিয়াউল হক জানান, “ঘটনার দিন আমি নামাজে ছিলাম। নামাজ শেষ হওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ফোন করে আমাকে মিছিলের বিষয়টি জানানো হয়। পরে শিক্ষকদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া:
এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
​অনেকে স্কুল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখছেন। গাজী আসাদুজ্জামান নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটি সবার জন্য সতর্কবার্তা। একটি ভুলের কারণে পড়াশোনা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”
​অন্যদিকে, কেউ কেউ এই শাস্তিকে অপর্যাপ্ত মনে করে আরও কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তবে অপর একটি পক্ষ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে শাস্তি পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত