শ্রীমঙ্গলের সময়

প্রাথমিকের নতুন কারিকুলামে পাঁচ বিষয়ে গুরুত্ব, বদলে যেতে পারে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান

শিক্ষা · 2026-11-08T08:31:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

শিক্ষার্থীদের বয়স, সক্ষমতা ও শিখনচাহিদা অনুযায়ী ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষাক্রমে শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ব্যবহারিক শিখন কার্যক্রমেও জোর দেওয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার প্রচলিত পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীদের বয়স, সক্ষমতা ও শিখনচাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে আনন্দময় পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি)। এতে বিদ্যালয়ভেদে শিখনঘণ্টার বৈষম্য দূর করা এবং প্রতিটি বিষয়ের পাঠদান ও শিখন উপকরণ আরও বিজ্ঞানসম্মত, সহজবোধ্য ও বয়সোপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা যেন শ্রেণিকক্ষে খেলতে খেলতে পড়াশোনা করতে পারে, সে ধরনের আনন্দময় পরিবেশ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষণীয় খেলনা ও বিভিন্ন ব্যবহারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঠদান সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলা, গণিত ও ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষকদের হাতে ট্যাব পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের শিখন-ঘাটতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণের আশাবাদ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে ১৫১টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। বাকি উপজেলাগুলোতে কর্মসূচি সম্প্রসারণে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত মনিটরিং এবং শিশুবান্ধব অবকাঠামো তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে এসে প্রকৃত অর্থে শিখছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত