শ্রীমঙ্গলের সময়

কাপড়ে শিশুর প্রস্রাব লাগলে নামাজের আগে কী করতে হবে?

ধর্ম · 2026-10-27T03:11:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

শিশুর প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে নামাজের আগে আক্রান্ত স্থান পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে; পুরো পোশাক ধোয়া সব সময় জরুরি নয়। কিছু মাজহাবে দুধপানকারী ছেলে শিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে পানি ছিটিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী ছেলে ও মেয়ে উভয় শিশুর প্রস্রাব ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

শিশুকে কোলে নেওয়া, খাওয়ানো কিংবা ঘুম পাড়ানোর সময় মা-বাবার কাপড়ে প্রস্রাব লেগে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে নবজাতক ও ছোট শিশুর পরিচর্যার সময় এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয় অনেক পরিবারকে। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, এই কাপড়ে নামাজ আদায় করা যাবে কি না, পুরো পোশাক ধুতে হবে কি না এবং শিশু শুধু মায়ের দুধ পান করলে পরিষ্কারের নিয়মে কোনো পার্থক্য রয়েছে কি না।

ইসলামে পবিত্রতার গুরুত্ব অনেক। নামাজ আদায়ের জন্য শরীর, পোশাক ও নামাজের স্থান পবিত্র রাখা প্রয়োজন। সাধারণভাবে শিশুর প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে নামাজের আগে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার করতে হবে। তবে পুরো পোশাক ধোয়া সব সময় প্রয়োজন হয় না। প্রস্রাব যে অংশে লেগেছে, সেই অংশে সীমাবদ্ধ থাকলে শুধু ওই স্থান পরিষ্কার করলেই চলে। নাপাকি অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়লে সেসব স্থানও পরিষ্কার করতে হবে।

শিশুর প্রস্রাব পরিষ্কারের বিষয়ে হাদিসেও নির্দেশনা রয়েছে। উম্মু কায়স বিনতে মিহসান (রা.) তাঁর এমন একটি ছেলে শিশুকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নিয়ে এসেছিলেন, যে তখনো সাধারণ খাবার খাওয়া শুরু করেনি। শিশুটি নবীজি (সা.)-এর কাপড়ে প্রস্রাব করলে তিনি পানি আনতে বলেন এবং কাপড়ের ওই স্থানে পানি ছিটিয়ে দেন। এ ঘটনা সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসের আরবি অংশ:

فَدَعَا بِمَاءٍ فَنَضَحَهُ عَلَيْهِ وَلَمْ يَغْسِلْهُ

বাংলা উচ্চারণ:

ফাদা‘আ বিমা-ইন ফানাদাহু আলাইহি, ওয়া লাম ইয়াগসিলহু।

বাংলা অর্থ:

তিনি পানি আনালেন এবং কাপড়ের ওই স্থানে পানি ছিটিয়ে দিলেন; সেটি ধৌত করলেন না।

সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ২২৩।

এই হাদিসে এমন ছেলে শিশুর কথা বলা হয়েছে, যে তখনো সাধারণ খাবার খাওয়া শুরু করেনি। এ ধরনের শিশুর প্রস্রাব পরিষ্কারের পদ্ধতি নিয়ে ইসলামি ফিকহের বিভিন্ন মাজহাবে আলোচনা রয়েছে। কিছু মাজহাবে দুধপানকারী ছেলে শিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে পানি ছিটিয়ে দেওয়াকে যথেষ্ট মনে করা হয়। তবে এই বিধান সব শিশুর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়।

বাংলাদেশে প্রচলিত হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, ছেলে ও মেয়ে উভয় শিশুর প্রস্রাবই নাপাক। তাই শিশুর প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে আক্রান্ত স্থান পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। শুধু ছেলে শিশু, ছোট শিশু কিংবা মায়ের দুধ পান করে—এই কারণে কাপড় পরিষ্কার না করে নামাজ আদায় করা যাবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। হানাফি মাজহাব অনুসরণকারী মুসলমানদের জন্য আক্রান্ত স্থান ধুয়ে নেওয়াই করণীয়।

কাপড় পরিষ্কার করার সময় প্রথমে প্রস্রাব কোথায় লেগেছে, তা শনাক্ত করতে হবে। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ওই স্থান ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে, যেন প্রস্রাবের নাপাকি দূর হয়। কাপড়ের যে অংশে প্রস্রাব লাগেনি, সেই অংশ অকারণে ধোয়ার প্রয়োজন নেই। তবে প্রস্রাব ছড়িয়ে পড়লে আক্রান্ত সব অংশ পরিষ্কার করতে হবে। কাপড় শুকিয়ে গেলেই সেটি পবিত্র হয়ে গেছে—এমন মনে করা উচিত নয়; বরং পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

আরেকটি বিষয় জানা জরুরি, শিশুর প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে শুধু এ কারণে ওযু ভেঙে যায় না। অর্থাৎ, কারও ওযু থাকা অবস্থায় শিশুর প্রস্রাব পোশাকে লাগলে তাঁকে শুধু এই কারণে নতুন করে ওযু করতে হবে না। তবে নামাজের আগে কাপড়ের নাপাকি পরিষ্কার করতে হবে। একইভাবে শরীরে প্রস্রাব লাগলে শরীরের আক্রান্ত স্থানও ধুয়ে নিতে হবে। অন্য কোনো কারণে ওযু ভেঙে গেলে অবশ্যই নতুন করে ওযু করতে হবে।

শিশুর পরিচর্যার সময় বারবার কাপড় পরিবর্তন করা অনেকের জন্য কষ্টকর হতে পারে। তাই পরিষ্কার অতিরিক্ত কাপড় কাছে রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আক্রান্ত স্থান ধুয়ে নেওয়া সুবিধাজনক। তবে পবিত্রতা নিয়ে অযথা সন্দেহে ভোগারও প্রয়োজন নেই। প্রস্রাব লাগার বিষয়টি নিশ্চিত না হলে শুধু সন্দেহের কারণে কাপড় নাপাক ধরে নেওয়া উচিত নয়। নিশ্চিতভাবে নাপাকি লাগলে নিয়ম অনুযায়ী পরিষ্কার করাই যথেষ্ট।

সুতরাং শিশুর প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। নামাজের আগে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার করতে হবে এবং নাপাকি অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে সেগুলোও ধুয়ে নিতে হবে। ছেলে শিশুর দুধপানের পর্যায় নিয়ে বিভিন্ন মাজহাবে বিশেষ বিধান থাকলেও হানাফি মাজহাব অনুযায়ী ছেলে ও মেয়ে উভয় শিশুর প্রস্রাবের আক্রান্ত স্থান ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। পবিত্রতা বজায় রেখে নামাজ আদায় করাই এখানে মূল বিষয়।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত