শ্রীমঙ্গলের সময়

রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

অর্থনীতি · 2026-10-27T04:28:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আয়োজিত বৈঠকে প্রস্তাবটি তুলে ধরা হয়।

পবিত্র রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ব্যবসায়ীরা এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রস্তুতি, সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ভোজ্যতেলের পাশাপাশি খেজুর আমদানি, শুল্ক কাঠামো, ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। রমজানে বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি যুক্ত হওয়ায় বর্তমান দামে তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে লিটারপ্রতি ১৫ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে উপস্থাপিত বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৮ লাখ ২৩ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৭ লাখ ৫ হাজার টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার টন।

এ সময়ে ভোজ্যতেল আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার টনের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি। আমদানি ও এলসি খোলার পরিমাণ বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য পরিস্থিতি এবং পরিবহন ব্যয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ রয়েছে।

রমজানে সেহরি ও ইফতারের বিভিন্ন খাবার তৈরিতে সয়াবিন ও পাম তেলের ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে এ সময় ভোজ্যতেলের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়ে। বাড়তি চাহিদার মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারদর সহনীয় রাখাই সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বৈঠকে সরকার ব্যবসায়ীদের সময়মতো প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় আপাতত প্রস্তাবটি বিবেচনাধীন রয়েছে। রমজানের আগে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাজারের দাম এবং আমদানি ব্যয়ের পরিস্থিতি পরবর্তী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত