লক্ষ্মীপুরে ৭ বছরের নাতিকে দুই লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ
সারাদেশ · 2026-10-27T02:11:11.000000Z · জেলা প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঞ্ছানগর এলাকায় সাত বছর বয়সী নাতিকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ৫৭ বছর বয়সী লেদু মিয়া ওরফে বাবুল। তাঁর দাবি, ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটিকেও নিয়ে যান তাঁর স্ত্রী, সৎনাতির মা ও এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঞ্ছানগর এলাকায় এক ব্যক্তির ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে উধাও হওয়া এবং একটি শিশুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী, সৎকন্যা ও এক অজ্ঞাতনামা সহযোগীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে গত ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী লেদু মিয়া ওরফে বাবুল (৫৭)।
অভিযোগকারী লেদু মিয়া রামগঞ্জ উপজেলার বাঁশঘর (২ নং ওয়ার্ড) গ্রামের মৃত আবদুল আজিজের ছেলে। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত এবং সদর থানাধীন বাঞ্ছানগরের দোকলা বাড়িতে বসবাস করেন।
অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে লেদু মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম ওরফে হাসিনা বেগম (৪৮), জাহানারার মেয়ে মরিয়ম বেগম (১৮) এবং একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারী অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে। বিবাদীদের ঠিকানা রামগঞ্জের উত্তর বাহাদুর (৩ নং ওয়ার্ড) এবং বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের কদমতলী থানাধীন খানকা শরীফ রোড (ওয়ার্ড ৬৫, ডি-ব্লক) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে লেদু মিয়া জানান, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি জাহানারাকে বিয়ে করেন। বিয়ের আগেই জাহানারার দুটি সন্তান ছিল। কিছুদিন সংসার ভালো চললেও পরে স্ত্রীর নানা অপকর্মের কথা তিনি জানতে পারেন। নিষেধ করেও কোনো লাভ হয়নি। তাঁর দাবি, অজ্ঞাতনামা তৃতীয় বিবাদীর ইন্ধনে প্রথম দুই বিবাদী দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত। তাঁরা বিভিন্ন সময় ভিন্ন পরিচয় ও একাধিক সিম ব্যবহার করে এলাকায় চলাফেরা করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে লেদু মিয়া ঘুমিয়ে থাকার সময় বিবাদীরা তাঁর ঘর থেকে প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা) ও ব্যবসার জন্য রাখা নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যান। একই সঙ্গে তাঁর প্রথম সংসারের ছেলের ঘরের নাতি রবিউল আউয়াল (৭) যে তখন দাদার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল, এবং মরিয়মের এক মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে তাঁরা নারায়ণগঞ্জের কদমতলী এলাকায় চলে যান।
লেদু মিয়ার দাবি, তিনি পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার নাতি রবিউলকে উদ্ধার করেন। ওই ব্যক্তির কাছ থেকেই জানতে পারেন, বিবাদীরা শিশুটিকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, এ বিষয়ে তৃতীয় বিবাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রাননাশের হুমকি দেন, আবার যোগাযোগ করলে বা কাজে বাধা দিলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে। অভিযোগে সাক্ষী হিসেবে বাঞ্ছানগরের রায়হান, রোজিনা আক্তার ও সোহেল রানা এবং কদমতলীর আজাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
লেদু মিয়া বলেন, "হুমকির মুখে এলাকার লোকজনের পরামর্শে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। আমি আমার সেই নাতি ও সম্পদের নিরাপত্তা চাই।"
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।