ভোজ্য তেলের দাম লিটারে আরও ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব
অর্থনীতি · 2026-10-28T10:53:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
দেশে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো। প্রস্তাব কার্যকর হলে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা থেকে বেড়ে ২১৮ টাকা হতে পারে। তবে দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে এখনো সম্মতি দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
দেশের বাজারে আবারও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো। বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়াতে চায় তারা। প্রস্তাব কার্যকর হলে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২০৪ টাকা থেকে বেড়ে ২১৮ টাকা হবে। আর পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭০ টাকা হতে পারে।
নতুন করে দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
চিঠিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং দেশে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এসব কারণে সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করছে কোম্পানিগুলো।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২০৪ টাকা। কোম্পানিগুলো তা বাড়িয়ে ২১৮ টাকা করতে চায়। পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করার আবেদন জানিয়েছে তারা।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়। দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে আবার দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এল।
সংগঠনটি চিঠিতে ২৫ অক্টোবর থেকে নতুন দাম কার্যকরের কথা উল্লেখ করেছিল। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। ফলে প্রস্তাবিত দাম কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত ও বাজার পরিস্থিতি যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, সয়াবিন তেলের বাজারে বড় কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
ক্যাবের সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, দেশের সয়াবিন তেলের বাজারের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ চার-পাঁচটি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সরবরাহ করে ছোট কোম্পানিগুলো।
তাঁর অভিযোগ, বড় কোম্পানিগুলো কখনো কখনো বাড়তি মুনাফার জন্য ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এতে সরকার চাপের মুখে পড়ে এবং সাধারণ ভোক্তাদের বেশি দামে তেল কিনতে হয়। গত কয়েক বছর ধরে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ক্যাবের এই নেতা আরও বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে অনেক সময় লিটারপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি হয়। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়তে পারে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতি না থাকায় প্রস্তাবিত নতুন দামকে এখনই কার্যকর সরকারি মূল্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।