এইচএসসি পরীক্ষায় কিশোরগঞ্জে শীর্ষে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
সারাদেশ · 2026-10-31T13:22:37.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কিশোরগঞ্জ জেলার কলেজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে বাজিতপুরের ভাগলপুর আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
ফলাফলের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তাসলিমা মেমোরিয়াল কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ৮২ দশমিক ০৯ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ। এ ছাড়া গুরুদয়াল সরকারি কলেজের পাসের হার ৮০ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং গচিহাটা কলেজের ৭০ শতাংশ।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের পাসের হার ৬২ দশমিক ৪২ শতাংশ। পাকুন্দিয়ার এম এ মান্নান মানিক কলেজের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
জেলার কলেজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করায় আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আনন্দ ও উৎসাহের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এ সাফল্যে খুশি স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা।
কলেজের অধ্যক্ষ শেখ শাজাহান বলেন, পরিকল্পিত পাঠদান, নিয়মিত ক্লাস টেস্ট, সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ এবং শ্রেণি কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়ম-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ, শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে সভা আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগই এ সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অধ্যক্ষ বলেন, কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন এবং জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়াতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রাখতে কলেজ কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
কলেজের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান মন্টু বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজের এমন সাফল্য আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। তবে আমরা শুধু বর্তমান ফলাফলে সন্তুষ্ট থাকতে চাই না। আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল এবং জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে কলেজের শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সার্বিক শৃঙ্খলা উন্নয়নে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “কলেজের সার্বিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে আটটি উপকমিটি এবং একটি শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করেছি। এসব কমিটির মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, পাঠদান কার্যক্রমের তদারকি এবং প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত ও সার্বিক উন্নয়নে কাজ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে শিক্ষার মান ও ফলাফলের দিক থেকে আরও এগিয়ে নেওয়া। এ জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনেও কলেজটি শিক্ষার মান ও পরীক্ষার ফলাফলে আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।