পরীক্ষায় ফেল মানেই শেষ নয়, শিক্ষার্থীদের নতুন বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর
শিক্ষা · 2026-10-31T14:15:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষায় ফেল করা মানেই সব শেষ নয়; সামনে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে শিক্ষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই শিক্ষার্থীদের সামনে সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, যারা এবার ভালো ফল করতে পারেনি, তাদের সামনে ভবিষ্যতে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। হতাশ না হয়ে আরও উদ্যম নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ প্রাঙ্গণে ‘বিএনএমপিসি ন্যাশনাল সায়েন্স কার্নিভাল ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বক্তব্যের বিষয়টি জানানো হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তি তৈরি করে তা ব্যবহার করছে। বাংলাদেশকেও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। এ জন্য শিক্ষায় আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষা খাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ড. মিলন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছেন। ২০২৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে পরিমার্জিত কারিকুলামের আলোকে নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তন করা হবে। এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’, খেলাধুলা ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’—এই চারটি নতুন বই শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সঠিকভাবে পাঠদান পর্যবেক্ষণের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে।
বিজ্ঞান কার্নিভালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকল্প দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও নদীগুলোকে জীবন্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা তাঁকে আনন্দিত করেছে। উন্নত বিশ্বের মতো ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক সমন্বয় করা গেলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের আগে শিক্ষামন্ত্রী মেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১২টি স্টল পরিদর্শন করেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
এ সময় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, কলেজের প্রিন্সিপাল লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলামসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।