শ্রীমঙ্গলের সময়

কমলগঞ্জ পৌরসভাকে নান্দনিক ও অত্যাধুনিকরূপে গড়তে চান জামায়াত মেয়র প্রার্থী সৈয়দ কয়ছর

সিলেটের খবর · 2026-10-26T16:42:00.000000Z · প্রতিবেদক, কমলগঞ্জ


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভাকে একটি নান্দনিক, নাগরিকবান্ধব ও অত্যাধুনিক মডেল পৌরসভায় রূপান্তরের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছর। সমৃদ্ধ পর্যটন অঞ্চলের এই পৌরসভাকে এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে এগিয়ে নিতে চান তিনি।

​সম্প্রতি এক বিশেষ সভায় কমলগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছরকে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কমলগঞ্জ উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মো. ইয়ামীর আলী।

​সভায় মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি পৌরসভার ৫টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়। প্রার্থীরা হলেন— ১নং ওয়ার্ডে মাওলানা নুরুল ইসলাম হায়দার, ২নং ওয়ার্ডে জাবের আহমদ মিন্টু, ৬নং ওয়ার্ডে আবু তালেব, ৭নং ওয়ার্ডে আরমান হোসেন দুলন এবং ৯নং ওয়ার্ডে মিলাদ তরফদার।

​মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সেক্রেটারী আলাউদ্দিন শাহ্, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস নোমান, কমলগঞ্জ উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ মো. মাসুক মিয়া এবং উপজেলা সহকারী সেক্রেটারী মো. মনসুর আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বিশেষ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

​সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মো. ইয়ামীর আলী বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় নির্বাচনে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে প্রার্থী দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জনগণ প্রতিটি স্তরে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা করছে। তিনি সব প্রার্থীকে দ্রুত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জনগণের মন জয় করার পরামর্শ দেন।

​দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছর। দল ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, "কমলগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি অত্যাধুনিক মডেল পৌরসভা গড়ে তোলার তাগিদেই আমি এই দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছি। অতীতে যারা পৌরসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন কোনো চমক বা কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারেননি।"

​তিনি আরও বলেন, "কমলগঞ্জের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আমি অতীতে রাজপথে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও সবাইকে সাথে নিয়ে লড়ে যাব। পৌরসভার উন্নয়নে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছি।"

​পৌরসভার বর্তমান নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে সৈয়দ কয়ছর বলেন, রাজনৈতিক মতদ্বৈততার কারণে কমলগঞ্জ পৌরসভা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছে। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, অবৈধ স্থাপনা, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভাঙাচোরা রাস্তা, ফুটপাত দখল, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশা ও রোগবাহী জীবাণু নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার কারণে পৌরবাসীকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিয়েও অনেকে উদ্বিগ্ন থাকেন।

​নির্বাচিত হলে কমলগঞ্জ পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও উন্নত শহরে রূপান্তরে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান:

  • ​অবকাঠামোগত উন্নয়ন: মানসম্মত রাস্তাঘাট, আধুনিক ড্রেনেজ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।


  • ​পরিচ্ছন্ন শহর গড়া: আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ।

  • ​ডিজিটাল নাগরিক সেবা: জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ সব নাগরিক সেবা অনলাইনে দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা করা।

  • ​শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

  • ​তারুণ্য ও আইনশৃঙ্খলা: তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে মাঠ ও পার্কের উন্নয়ন এবং মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করা।
  • ​রাজস্ব বৃদ্ধি ও প্রবাসীবান্ধব উদ্যোগ: পৌরসভার নিজস্ব আয় বাড়াতে মার্কেট নির্মাণসহ প্রবাসীবান্ধব বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত