শ্রীমঙ্গলের সময়

৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে উত্তাল শিল্পাঞ্চল

জাতীয় · 2026-11-02T04:16:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির কারণে ৫২৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে দিনভর সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকা। সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির কারণে মিরপুর, আশুলিয়া, সাভার ও গাজীপুর এলাকার ৫২৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি শিল্প পুলিশ, এপিবিএন, এসআরবি ও থানা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সংঘর্ষের কারণে ঢাকার মেট্রোরেলের মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

রাজধানীর মিরপুরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। শনিবার সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে অবরোধের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিরপুর-১১, ১২ ও প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে পুরো এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনারের ব্যবহৃত ডাবল কেবিন পিকআপও হামলার শিকার হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।

মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি গাড়িতে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট হামলার শিকার হয়। ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, গাড়ি দুটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আন্দোলনকারীরা অতর্কিত হামলা চালান। এতে গাড়ির চালক আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে বিক্ষোভের মধ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ‘আমার দেশ’-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার পাপ্পু হোসেন আহত হন। তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন, কারও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে অন্যায় হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ দাবি করেছে, শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা যুক্ত হয়ে নাশকতার চেষ্টা করেছেন। মিরপুর বিভাগের ডিসি রাকিব খান জানান, আন্দোলনের মধ্য থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাজীপুরেও সকাল থেকে বিক্ষোভ, অবরোধ ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। টঙ্গী, কালিয়াকৈর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। বিভিন্ন স্থানে দোকান, ব্যাংক ও কারখানার গেটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের ঝুটের গুদামে আগুন দেওয়া হয়। কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকায় পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

গাজীপুরে সংঘর্ষে অন্তত ২২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন তিন সাংবাদিকও। দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিক রেজাউল করিম রেজার মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, পরে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

আশুলিয়ার আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কেও বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। নরসিংহপুর এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আশুলিয়ায় পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ওভারটাইমের সুযোগ কমে যাওয়ায় তাঁদের আয়ও কমেছে। এ কারণে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। ঢাকা ও গাজীপুরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সূত্র:আমার দেশ

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত