আগেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে দিন, রেফারিং নিয়ে ওতামেন্দির ক্ষোভ
খেলা · 2026-11-03T04:05:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
আর্জেন্টিনার সুপারক্লাসিকোয় বোকা জুনিয়র্সের কাছে ১-০ গোলে হারের পর রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিভার প্লেটের খেলোয়াড় নিকোলাস ওতামেন্দি। তাঁর অভিযোগ, রেফারির সিদ্ধান্তে দলগুলো সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাচ্ছে না। আগামী বছর কাকে জেতানো হবে, তা আগেই জানিয়ে দেওয়ার ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেছেন তিনি।
আর্জেন্টিনার সুপারক্লাসিকোয় রিভার প্লেটের বিপক্ষে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তাঁর মতে, এমন রেফারিং আর্জেন্টাইন ফুটবলের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগই দেওয়া হচ্ছে না। আগামী বছর কাকে জেতানো হবে, সেটি আগেই জানিয়ে দেওয়ার ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেছেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। তাঁর এমন বক্তব্যের পর দেশটির ফুটবলে রেফারিংয়ের মান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
১ নভেম্বর ২০২৬, আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথ সুপারক্লাসিকোয় মুখোমুখি হয়েছিল রিভার প্লেট ও বোকা জুনিয়র্স। বুয়েনস এইরেসের ঐতিহাসিক লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে স্বাগতিক বোকা জুনিয়র্স ১-০ গোলে জয় তুলে নেয়। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন লাউতারো দি লোল্লো। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের এই লড়াই ঘিরে শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও পরবর্তী সময়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে রিভারের খেলোয়াড়দের লাল কার্ড এবং পেনাল্টির আবেদন ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ে।
এই ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেন নিকোলাস রামিরেজ। তাঁর কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে রিভার প্লেটের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। ম্যাচের প্রথমার্ধেই লুকাস মার্তিনেজ কুয়ার্তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। পরবর্তী সময়ে গনসালো মন্তিয়েলও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে রিভার প্লেটকে একাধিকবার খেলোয়াড়সংখ্যার ঘাটতি নিয়ে খেলতে হয়। অন্যদিকে বোকা জুনিয়র্সের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিস্থিতিতে রেফারি ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ই ম্যাচ শেষে রিভার শিবিরের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ওতামেন্দির অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বোকা জুনিয়র্সের পেনাল্টি বক্সের ভেতরে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় তাঁকে ধাক্কা ও টানাটানি করলেও রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেননি। এমনকি বিষয়টি ভিএআরের মাধ্যমে পর্যালোচনাও করা হয়নি বলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, একই ধরনের পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দলের জন্য ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ বজায় রাখতে হলে রেফারির সিদ্ধান্তে সমতা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, এই ম্যাচে সেই সমতা দেখা যায়নি। ফলে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি রেফারিং নিয়েও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা আর্জেন্টাইন ফুটবলকে ধ্বংস করছে।’ তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ম্যাচের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে তাঁর অসন্তুষ্টি কতটা তীব্র ছিল। শুধু একটি ম্যাচের ফলাফল নয়, বরং দেশটির ফুটবলে রেফারিংয়ের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, খেলোয়াড়দের মাঠে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু রেফারির সিদ্ধান্ত যদি সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ফুটবলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিজের বক্তব্যের পরবর্তী অংশে আরও কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওতামেন্দি। তিনি বলেন, ‘তোমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হচ্ছে না। আগামী বছর তারা কাকে জেতাতে চায়, সেটা আমাদের আগেই বলে দিলেই হয়। তাহলে আমরা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও নামব না।’ তাঁর এই মন্তব্য মূলত রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে উঠে এসেছে। তিনি সরাসরি বোঝাতে চেয়েছেন, মাঠের লড়াইয়ে সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে প্রতিযোগিতার প্রকৃত অর্থ থাকে না। যদিও এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিযোগ, তবু এমন মন্তব্য সুপারক্লাসিকোর পর রেফারিং বিতর্ককে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
অন্যদিকে ম্যাচের ফলাফল ও রেফারির সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে বোকা জুনিয়র্স নিজেদের জয় নিয়ে এগিয়ে গেছে। লাউতারো দি লোল্লোর একমাত্র গোলে পাওয়া জয়টি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও রিভার প্লেটের শিবিরে হতাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একাধিক লাল কার্ড এবং পেনাল্টির আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঘটনা নিয়ে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতমূলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মতো কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ এই বক্তব্য থেকে পাওয়া যায় না। ম্যাচের ঘটনাগুলো এবং ওতামেন্দির অভিযোগকে আলাদা করে বিবেচনা করাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাঠের উত্তেজনা ও খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া অনেক সময় বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে তোলে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের সুপারক্লাসিকো শেষ হওয়ার পরও আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে রেফারিং বিতর্ক। একদিকে বোকা জুনিয়র্সের ১-০ গোলের জয়, অন্যদিকে রিভার প্লেটের খেলোয়াড়দের অসন্তোষ—দুই বিষয়ই ম্যাচটিকে আলোচনায় রেখেছে। বিশেষ করে ওতামেন্দির ‘আর্জেন্টাইন ফুটবলকে ধ্বংস করা হচ্ছে’ মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে ফুটবলে রেফারির নিরপেক্ষতা, ভিএআরের ব্যবহার এবং প্রতিটি দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রশ্ন। এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্ক নিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল কর্তৃপক্ষ বা রেফারিং বিভাগ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় কি না।