শ্রীমঙ্গলের সময়

শিক্ষক নেই, ল্যাব অচল, আইসিটিতে ফল বিপর্যয়ের দায় কার?

শিক্ষা · 2026-11-03T03:28:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় আইসিটি বিষয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এই ফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতির পাশাপাশি পর্যাপ্ত শিক্ষক, প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক অনুশীলনের সুযোগ না থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। লেখকের মতে, আইসিটি বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি শেখানোর উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

কম্পিউটারে একটি ছোট প্রোগ্রাম চালিয়ে ভুল সংশোধনের সুযোগ না পেলে একজন শিক্ষার্থী প্রোগ্রামিং শিখবেন কীভাবে? অথচ পরীক্ষার খাতায় সেই জ্ঞান প্রমাণ করার দায় তাঁরই। আইসিটি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; এখন হিসাব দিতে হবে, তা শেখানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করা হয়েছিল কি না। এবারের এইচএসসির ফল নিয়ে আলোচনায় শিক্ষার্থীর ব্যর্থতার পাশাপাশি এই প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের প্রশ্নটিও সামনে আসা জরুরি।

গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন প্রায় ছয় লাখ। বিষয়ভিত্তিক ফল নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে আইসিটিতে অকৃতকার্যের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন বলা হয়েছে। এই সংখ্যা বহু শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বাধার কথাও জানায়।

তবে খারাপ ফলের সব কারণ শিক্ষকসংকট দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। প্রশ্নের মান, উত্তরপত্র মূল্যায়নের সামঞ্জস্য, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও পূর্ববর্তী শিখনঘাটতি একসঙ্গে পর্যালোচনা করতে হবে। পাসের হার কমা মানেই দক্ষতা একই অনুপাতে কমেছে, এমন সিদ্ধান্তও প্রমাণ ছাড়া দেওয়া যায় না। এই সতর্কতা মেনেও বলা যায়, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও অনুশীলনের সুযোগের ঘাটতি দূর করা জরুরি।

একটি দৈনিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে আইসিটি বাধ্যতামূলক হওয়ার পর সরকারি কলেজে বিষয়ভিত্তিক প্রথম প্রভাষকেরা যোগ দেন ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক সরকারি কলেজে তখনো আইসিটির পদ ছিল না; সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও আলাদা পদ সৃষ্টি হয়নি। বিদ্যালয়গুলোর জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ৮৭২টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। বিষয় চালু, পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের এই দীর্ঘ ব্যবধান শিক্ষার্থীর প্রস্তুতিতে কী প্রভাব ফেলেছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একই প্রতিবেদনে নেত্রকোনা সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের প্রায় ২ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে সরকারিভাবে একজন আইসিটি শিক্ষকের কথা এসেছে। একজন শিক্ষক থাকলেই এত শিক্ষার্থীর নিয়মিত ক্লাস, ব্যবহারিক অনুশীলন ও ভুল সংশোধনের চাহিদা পূরণ হয় না। শিক্ষকসংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে শিক্ষার্থী, শাখা ও ব্যবহারিক পাঠঘণ্টার হিসাব ধরে।

অন্য বিষয়ের শিক্ষকেরা বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে ক্লাস চালালে তাঁদের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি প্রাপ্য। তাঁদের সামগ্রিকভাবে অযোগ্য বলাও অন্যায়। কিন্তু সেই দায়িত্বের সঙ্গে যথাযথ প্রশিক্ষণ, প্রস্তুতির সময় ও সহায়তা দিতে হবে। ব্যক্তিগত আগ্রহ ও সাময়িক ব্যবস্থা দিয়ে একটি বাধ্যতামূলক বিষয়ের স্থায়ী শিক্ষকসংকট সামলানোর চেষ্টা যথেষ্ট নয়।

আইসিটি বিষয় হিসেবে শেখানো এবং অন্য বিষয় শেখাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের পার্থক্যও স্পষ্ট করা দরকার। প্রজেক্টের উপস্থাপনা দেখলেই শিক্ষার্থী কম্পিউটারে কাজ করতে শেখেন না। ল্যাবে যন্ত্র থাকা, যন্ত্র সচল থাকা এবং শিক্ষার্থীর নিয়মিত ব্যবহার করতে পারা পৃথক বিষয়। প্রকল্পের হিসাব ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে এই পার্থক্যগুলো ধরতে হবে।

পাঠ্যক্রম কঠিন মনে হচ্ছে বলে সংখ্যা পদ্ধতি, প্রোগ্রামিং বা ডেটাবেজ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও সমাধান নয়। এগুলো যুক্তি ও সমস্যা সমাধানের ভিত্তি হতে পারে। প্রয়োজন ধাপে ধাপে শেখানো এবং কাজ করে দেখার সুযোগ। একটি সহজ ওয়েব পেজ তৈরি, স্থানীয় বাজারের হিসাব সাজানো কিংবা ছোট প্রোগ্রামের ভুল সংশোধনের মধ্য দিয়ে ধারণাগুলো শেখানো যেতে পারে।

পাশাপাশি তথ্যের উৎস যাচাই, স্প্রেডশিটে হিসাব করা, অনলাইন প্রতারণা চেনা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার দক্ষতা শেখাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি উত্তরের ভুল ধরতে শেখানোও প্রাসঙ্গিক। তবে নতুন বিষয় যোগ করার আগে পাঠ্যবস্তু ও পাঠঘণ্টা পর্যালোচনা প্রয়োজন। শেখানোর সামর্থ্য না বাড়িয়ে বিষয়বস্তু বাড়ালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের ওপরই চাপ পড়বে।

সংস্কারের দিকনির্দেশনা দিতে পারে জাতিসংঘের তথ্যসমাজবিষয়ক বিশ্বশীর্ষ সম্মেলন বা ডব্লিউএসআইএসের সি১–সি১১ অ্যাকশন লাইন। সি১ উন্নয়নে আইসিটির প্রসারে সরকার ও সব অংশীজনের ভূমিকা, সি২ তথ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো, সি৩ তথ্য ও জ্ঞানে প্রবেশাধিকার, সি৪ সক্ষমতা বৃদ্ধি, সি৫ আইসিটি ব্যবহারে আস্থা ও নিরাপত্তা এবং সি৬ অনুকূল পরিবেশকে গুরুত্ব দেয়। শিক্ষাক্ষেত্রে এগুলোর প্রয়োগ হতে পারে দায়িত্বের সমন্বয়, সচল ল্যাব, সাশ্রয়ী সংযোগ, উন্মুক্ত শিক্ষাসামগ্রী ও দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করার মাধ্যমে।

সি৭-এর আইসিটি প্রয়োগগুলোর মধ্যে রয়েছে ই-শিক্ষা। সি৮ সাংস্কৃতিক পরিচয় ও বৈচিত্র্য, ভাষাগত বৈচিত্র্য ও স্থানীয় কনটেন্ট; সি৯ গণমাধ্যম; সি১০ তথ্যসমাজের নৈতিক দিক এবং সি১১ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেয়। এই আলোকে বাংলায় মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী, স্থানীয় বাস্তবতার উদাহরণ, গণমাধ্যম ও তথ্যসাক্ষরতা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার পাঠদানে যুক্ত করা যায়। শিক্ষক উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতাও কাজে আসতে পারে।

জাতিসংঘের গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্টের পাঁচটি উদ্দেশ্যও প্রাসঙ্গিক। প্রথমটি সব ডিজিটাল বিভাজন দূর করে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের গতি বাড়ানো; দ্বিতীয়টি ডিজিটাল অর্থনীতিতে সবার অন্তর্ভুক্তি ও সুফল বাড়ানো; তৃতীয়টি মানবাধিকারকে সম্মান, সুরক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার উপযোগী অন্তর্ভুক্তিমূলক, উন্মুক্ত ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর গড়া। চতুর্থটি দায়িত্বশীল ও ন্যায্য উপাত্ত শাসন এগিয়ে নেওয়া, যেখানে বিভিন্ন ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে কাজ করতে পারে; পঞ্চমটি মানবকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আন্তর্জাতিক শাসন জোরদার করা।

কমপ্যাক্টে ২০৩০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে সব বিদ্যালয়কে চিহ্নিত করে ইন্টারনেটে যুক্ত করা, জাতীয় ডিজিটাল দক্ষতার কৌশল গড়ে তোলা এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পাঠ্যক্রমকে ডিজিটাল যুগের উপযোগী করার অঙ্গীকার রয়েছে। বাংলাদেশে এসব অঙ্গীকারের শিক্ষাগত প্রয়োগ হওয়া উচিত সুযোগের বৈষম্য কমানো, কর্মজীবনের প্রস্তুতি, শিক্ষার্থীর অধিকার ও উপাত্ত সুরক্ষা এবং এআই সম্পর্কে বিচারবোধ তৈরিতে। প্রতিটি উদ্যোগের বাজেট ও শেখার ফলের হিসাব প্রকাশ করতে হবে।

শুরু করতে হবে ঘাটতির সঠিক তথ্য দিয়ে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাউশি, শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সমন্বয়ে সরকারি-বেসরকারি কলেজের একটি সংক্ষিপ্ত নিরীক্ষা করতে পারে। কোথায় কতজন শিক্ষক আছেন, কতটি কম্পিউটার সচল, কতজন শিক্ষার্থী একটি যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং বাস্তবে কত ঘণ্টা ব্যবহারিক ক্লাস হয়, তা প্রকাশ করা প্রয়োজন।

ফল বিশ্লেষণের তথ্যও পরিষ্কার করতে হবে। ইংরেজি ও আইসিটিতে অকৃতকার্যের সংখ্যা যোগ করলে একই শিক্ষার্থী দুবার গণনা হতে পারেন। শিক্ষা বোর্ডগুলোকে বিষয়ভিত্তিক মোট পরীক্ষার্থী, অকৃতকার্যের সংখ্যা ও একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্যের তথ্য আলাদাভাবে দিতে হবে। এতে সমস্যার মাত্রা ও সহায়তার প্রয়োজন দুটিই যথাযথভাবে বোঝা যাবে।

নিরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। পদ সৃষ্টি, অর্থায়ন ও নিয়োগের কোন সিদ্ধান্ত কার কাছে আটকে আছে, তা জানাতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদিত শূন্য পদ পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নতুন পদ সৃষ্টির কাজ এগোতে হবে। সাময়িক শিক্ষক ব্যবস্থার অর্থায়ন ও মেয়াদও নির্দিষ্ট থাকা প্রয়োজন।

শিক্ষক প্রশিক্ষণের সাফল্য মাপতে হবে শ্রেণিকক্ষের কাজে। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষক একটি ব্যবহারিক ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীর ভুল শনাক্ত এবং ভিন্ন গতিতে শেখা শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে পারছেন কি না, তা যাচাই প্রয়োজন। অভিজ্ঞ শিক্ষক ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় নিয়মিত পরামর্শের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। নিয়োগের পাশাপাশি পেশাগত উন্নয়ন ও পদোন্নতির পথও সুস্পষ্ট রাখতে হবে।

ল্যাবের অগ্রাধিকার হবে বিদ্যমান যন্ত্র সচল করা ও ব্যবহার বাড়ানো। নতুন কম্পিউটার কেনার সঙ্গে মেরামত, সফটওয়্যার, বিদ্যুৎ ও কারিগরি সহায়তার নিয়মিত ব্যয় রাখতে হবে। ছোট দলে অনুশীলনের সময় নির্ধারণ এবং দুর্বল ইন্টারনেটেও ব্যবহারযোগ্য উপকরণ তৈরি করা প্রয়োজন। প্রকল্পের অর্জনে কতটি যন্ত্র কেনা হয়েছে, তার পাশাপাশি শিক্ষার্থী কতক্ষণ কাজ করতে পেরেছেন, সেই হিসাবও থাকতে হবে।

ঘাটতি বেশি হলে বরাদ্দও বেশি লাগবে। গ্রাম, চর, হাওর ও দুর্গম এলাকার ব্যয় ও সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিতে হবে। বাড়িতে কম্পিউটার নেই এমন শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিষ্ঠানে বাড়তি অনুশীলনের সময় রাখতে হবে। মেয়েদের নিরাপদ যাতায়াত ও সময়সূচি, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর প্রবেশগম্যতা এবং দরিদ্র পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

ব্যবহারিক মূল্যায়নে শিক্ষার্থীকে নিজে কাজ করতে দেওয়া ও কাজটি ব্যাখ্যা করতে বলা যেতে পারে। তবে অনুশীলনের সুযোগ না বাড়িয়ে হঠাৎ মূল্যায়ন কঠিন করলে বৈষম্য বাড়তে পারে। তাই নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ও স্বাধীন পর্যালোচনার পর পরিবর্তন আনা উচিত। নম্বর দেওয়ার অভিন্ন নির্দেশনা এবং নমুনা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

যাঁরা এবার অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁদের সহায়তা এখনই শুরু করা প্রয়োজন। পুনরায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিনা মূল্যে সহায়ক ক্লাস, ল্যাবে অনুশীলন এবং দুর্বলতা অনুযায়ী পাঠদান করা যেতে পারে। এই ব্যয় দরিদ্র পরিবারের ওপর চাপানো উচিত হবে না। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে, যাতে হতাশা বা ব্যর্থতার লজ্জায় কেউ পড়াশোনা ছেড়ে না দেন।

নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারও শেখার অংশ। শিক্ষার্থীর তথ্য দিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট খোলা, সম্মতি ছাড়া ছবি প্রকাশ কিংবা অনলাইন হয়রানির অভিযোগ উপেক্ষা করা চলবে না। বয়স ও কাজ অনুযায়ী পর্দার সামনে সময় এবং বিরতি নির্ধারণ করা যায়। প্রতিষ্ঠানকে নিজের চর্চায় গোপনীয়তা, সম্মতি ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

আগামী এক শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, অর্থের উৎস ও সময়সীমাসহ প্রকাশ্য কর্মপরিকল্পনা দিতে হবে। কতজন শিক্ষক নিয়োগ হলো, কত ঘণ্টা ব্যবহারিক ক্লাস হলো এবং শিক্ষার্থীরা নিজেরা কী কাজ করতে পারছেন, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে। ডব্লিউএসআইএস ও গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংযোগ, দক্ষতা, অন্তর্ভুক্তি ও নিরাপত্তার অগ্রগতিও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

ফলে অকৃতকার্য লেখা হলে তার মূল্য শিক্ষার্থীকেই দিতে হয়। শেখানোর ব্যবস্থা তৈরিতে ঘাটতি থাকলে তার জবাবদিহিও তাই দৃশ্যমান হতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ৯০ দিনে ঘাটতি ও তা পূরণের সময়সূচি প্রকাশ করুক। প্রতিটি কলেজ পরবর্তী পরীক্ষার আগে জানাক, শিক্ষার্থীরা কার কাছে শিখবেন, কোথায় নিয়মিত অনুশীলন করবেন এবং পিছিয়ে পড়লে কী সহায়তা পাবেন। আইসিটি বাধ্যতামূলক হলে শেখার এই সুযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্বও নিতে হবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত