শ্রীমঙ্গলের সময়

ভোরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, একের পর এক বিস্ফোরণ

বিশ্ব · 2026-11-03T02:41:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় হামলার খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের কথা বলা হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দ্বীপটিতে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কেশম দ্বীপে হামলার তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা আনাদোলুও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি কিংবা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এমন এক সময়ে নতুন হামলার খবর সামনে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি।’ কয়েক মাস ধরে কোনো লড়াই হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা নিয়েও তাঁর প্রশ্ন রয়েছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ধরনের সংঘাত না থাকলেও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পরিসরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে। কাতারের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ সহজ করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়। এর মধ্যেই কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত