শ্রীমঙ্গলের সময়

বকশীগঞ্জে রহস্যময় ‘জাদু-টোনা’র আতঙ্ক, বিনিদ্র রাত কাটছে মানুষের

সারাদেশ · 2026-11-04T07:18:42.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে এক রহস্যময় অলৌকিক আতঙ্ক। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কথিত ‘জাদু-টোনা’ বা তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপের ভয়ে দিন কাটছে স্থানীয়দের। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে এমনই এক চিত্র দেখা গেছে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুর পাড়া ইউনিয়নের খাঁন পাড়া গ্রামে। রাতের আঁধারে কে বা কারা বাড়ির আঙিনায় অদ্ভুত সব সামগ্রী রেখে যাচ্ছে এমন দাবিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকাবাসী। 

অনেকেই একে কুসংস্কার বললেও, রহস্য উদ্ঘাটনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান ভুক্তভোগীরা। বকশীগঞ্জের গ্রামগুলোতে এখন শুধুই এক অজানা আতঙ্ক। দিন গড়িয়ে রাত নামলেই বাড়ে এই ভীতি। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারে কে বা কারা বিভিন্ন বাড়ির দুয়ারে, উঠোনে কিংবা গাছের নিচে রেখে যাচ্ছে লেবু, সিঁদুর, লাল সুতা কিংবা অদ্ভুত সব তান্ত্রিক সামগ্রী। গ্রামীণ জনপদে যা ‘জাদু-টোনা’ বা কুফরি কালাম হিসেবে পরিচিত।

 মিয়া রদ্দিন খাঁন বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে দেহি দরজার সামনে লেবু আর লাল সুতা দিয়া কী যেন বান্ধা রাখছে। কারোর সাথে তো শত্রুতা নাই। এরপর থেইকা পোলাপান নিয়া ভয়ে আছি, রাতে ঘুমাইতে পারি না।’ এই ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। লোকলজ্জা আর অলৌকিক ক্ষতির ভয়ে অনেকেই তটস্থ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, কোনো কোনো পাড়ায় যুবকেরা রাত জেগে পাহারা দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। 

তবে সচেতন মহল বলছেন, এটি কোনো অলৌকিক বিষয় নয়, বরং কোনো চক্র গ্রামীণ সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বা শত্রুতার জেরে এই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে এই জাদু-টোনার ভয় আসলে এক ধরনের কুসংস্কার। তবে কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষের মনে ভয় ঢোকাতে এই কাজ করে থাকে, তবে তাকে খুঁজে বের করা উচিত। কামালের বার্ত্তী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জসীমউদ্দীন বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখতেছি এবং গ্রামীণ জনপদে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছি। তবে এই কৃত্রিম আতঙ্ক কাটিয়ে বকশীগঞ্জের মানুষ আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত