শ্রীমঙ্গলের সময়

নিবন্ধন ছাড়া অটোরিকশা চালালেই ব্যবস্থা? নতুন বিধিমালায় যা বলা হয়েছে

জাতীয় · 2026-10-31T03:16:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

নতুন ই-রিকশা বিধিমালায় নিবন্ধন ছাড়া চালানো, অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্য এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অপরাধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। দুর্ঘটনা ঘটলে আহত ব্যক্তিকে সহায়তা ও পুলিশকে অবহিত করার দায়িত্বও চালকের রয়েছে।

ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে একাধিক কাজকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমার বেশি গতিতে চলা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর ১৯ নম্বর বিধিতে এসব অপরাধের তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে এ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো যাবে না। নিবন্ধন ও অনুমোদন না নিয়ে সড়কে ই-রিকশা নামালে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। একইভাবে অনুমোদিত গতিসীমার বেশি গতিতে ই-রিকশা চালানো এবং নির্ধারিত ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করলেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

ই-রিকশার ব্যাটারি ও কাঠামো নিয়েও রয়েছে বিধিনিষেধ। অনুমোদন ছাড়া ব্যাটারি ব্যবহার কিংবা ই-রিকশার মোটর বা মূল কাঠামো পরিবর্তন করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে ইচ্ছেমতো ব্যাটারি, মোটর বা যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে ই-রিকশা চালানোর সুযোগ থাকছে না।

চলাচলের ক্ষেত্রেও ট্রাফিক আইন মানতে হবে। নিষিদ্ধ এলাকায় ই-রিকশা চালানো, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করাকে অপরাধের তালিকায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রী ছাড়া অন্য মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। যাত্রীর ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য মালামাল পরিবহন করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়াও অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিধিমালার ১৮ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে পরিস্থিতি অনুযায়ী আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে সাহায্য করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি জানাতে হবে। পরে পুলিশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে।

অর্থাৎ দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আহত ব্যক্তিকে সহায়তা না করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে সেটিও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালকের দায়িত্ব ও আইনি দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিধিমালায় আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে এসব অপরাধের জন্য কত টাকা জরিমানা বা কত দিনের কারাদণ্ড হবে, তা ১৯ নম্বর বিধিতে আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। সেখানে অপরাধের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট জরিমানা বা কারাদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখ করতে হলে সংশ্লিষ্ট অন্য আইন ও বিধানের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ই-রিকশার নিবন্ধন, গতি, যাত্রী পরিবহন, ব্যাটারি ও কাঠামোর নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক আইন অনুসরণের বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে। এতে চালকদের পাশাপাশি ই-রিকশার মালিকদেরও নির্ধারিত নিয়ম মেনে যানবাহন পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত