শ্রীমঙ্গলের সময়

ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে জ্বালানি তেল

অর্থনীতি · 2026-10-31T03:03:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ৬৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। গত এপ্রিলের শেষ দিকের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ সমাপনী দর।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের ডিসেম্বর সরবরাহের ফিউচার চুক্তি ২ দশমিক ৪ শতাংশ বা ২ ডলার ৭৬ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ৬৪ সেন্টে লেনদেন শেষ করে। দিনের লেনদেনে একপর্যায়ে দাম ১১৮ ডলারে পৌঁছেছিল। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ১২ সেন্টে দাঁড়ায়।

অক্টোবরজুড়েও তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল। মাস শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে টানা চতুর্থ মাসের মতো বাড়তি দামে মাস শেষ করেছে আন্তর্জাতিক বাজারের এই দুই প্রধান জ্বালানি তেল।

দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। সেখানে চলাচলকারী ট্যাঙ্কারে হামলা হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ছোট নৌযান থেকে বিস্ফোরক ডিভাইস দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধ শুরুর পর ওই জলপথে এ ধরনের লিমপেট মাইন হামলার প্রথম সফল ঘটনা এটি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের নির্ধারিত অনুমোদিত পথের বাইরে চলাচলের সময় কয়েকটি ট্যাঙ্কার মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব দাবির সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়লে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় আরও চাপে পড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বার্তা সংস্থা রয়টার্স,

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত