নতুন TIN করেছেন? প্রথম আয়কর রিটার্ন দেওয়ার আগে যা জানা জরুরি
অর্থনীতি · 2026-10-31T04:18:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
নতুন টিআইএনধারীদের প্রথম আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে আয়, সম্পদ, দায়, ব্যাংক হিসাব ও করসংক্রান্ত তথ্য প্রস্তুত রাখা জরুরি। আয় না থাকলেও আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। অনলাইনে রিটার্ন জমার জন্য টিআইএন, এনআইডি ও নিজের নামে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন।
নতুন করে ১২ ডিজিটের ই-টিআইএন (e-TIN) করেছেন? তাহলে প্রথম আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি। অনেকেই ব্যাংক হিসাব খোলা, ক্রেডিট কার্ড নেওয়া, ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে টিআইএন করেন। কিন্তু টিআইএন পাওয়ার পর কখন রিটার্ন দিতে হবে, কী কী কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে, আয় না থাকলে কী দেখাতে হবে এবং অনলাইনে কীভাবে রিটার্ন জমা দিতে হবে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকে না।
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, টিআইএন করা এবং আয়কর দেওয়া এক বিষয় নয়। টিআইএন হলো করদাতার পরিচিতি নম্বর। আর আয়কর রিটার্ন হলো নির্দিষ্ট আয়বর্ষে আয়, সম্পদ, দায় ও প্রযোজ্য করের হিসাব কর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। টিআইএন করলেই যে আপনাকে অবশ্যই কর দিতে হবে, তা নয়। তবে আয়কর আইন অনুযায়ী আপনার রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা তৈরি হলে নির্ধারিত নিয়মে রিটার্ন জমা দিতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, করযোগ্য আয় থাকা ব্যক্তির পাশাপাশি যাঁদের আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে রিটার্ন দিতে হয়, তাঁদেরও রিটার্ন দাখিল করতে হয়। তাই নতুন টিআইএনধারীদের প্রথম কাজ হলো নিজের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা বুঝে নেওয়া।
টিআইএন করার পর কি প্রথম রিটার্ন জমা দিতে হবে?
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৬৬ ধারায় কারা রিটার্ন দাখিল করবেন, তার শর্ত উল্লেখ রয়েছে। করযোগ্য আয় থাকলে রিটার্ন দিতে হবে। এ ছাড়া করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া, আগের তিন বছরের মধ্যে কোনো বছরে কর নির্ধারণ হওয়া, নির্দিষ্ট পদে চাকরি করা, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা কর্মচারী হওয়া কিংবা নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের জন্য রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও রিটার্ন দিতে হতে পারে।
এ কারণে নতুন টিআইএন করার পর শুধু আয় কম বা আয় নেই—এমন যুক্তিতে রিটার্নের প্রয়োজন নেই ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আপনার টিআইএন কোন কারণে করা হয়েছে এবং আইনের কোন শর্ত আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা যাচাই করতে হবে।
প্রথম রিটার্নে কোন আয়বর্ষের হিসাব দেখাবেন?
প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়বর্ষ ও করবর্ষের পার্থক্য বোঝা জরুরি।
বাংলাদেশে সাধারণত ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কে ব্যক্তির আয়বর্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই আয়বর্ষের পরবর্তী সময়ের করবর্ষে সংশ্লিষ্ট রিটার্ন জমা দেওয়া হয়।
উদাহরণ হিসেবে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয় হলো ২০২৬–২৭ আয়বর্ষের আয়। এর জন্য প্রযোজ্য করবর্ষ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
তবে প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সময়সীমা থাকতে পারে। এনবিআরের FAQ অনুযায়ী, যিনি আগে কখনো রিটার্ন দাখিল করেননি, তাঁর জন্য আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩০ জুন পর্যন্ত সময় প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নতুন করদাতার ক্ষেত্রে সাধারণ করদিবসের নিয়মের পাশাপাশি প্রথমবার রিটার্ন দাখিলের সময়সীমাও যাচাই করা জরুরি।
প্রথম রিটার্ন দেওয়ার আগে যেসব কাগজপত্র ও তথ্য প্রস্তুত রাখবেন
প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় গুছিয়ে রাখলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা কমে। আপনার পেশা ও আয়ের ধরন অনুযায়ী সব কাগজ সবার জন্য এক রকম হবে না। তবে সাধারণভাবে নিচের তথ্যগুলো প্রস্তুত রাখা ভালো।
১. টিআইএন ও ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য: ১২ ডিজিটের টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্র, নিজের নাম, জন্মতারিখ, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং সচল মোবাইল নম্বর।
২. আয়ের তথ্য: চাকরিজীবী হলে বেতন বিবরণী ও প্রয়োজনে নিয়োগকর্তার দেওয়া সনদ; ব্যবসায়ী হলে ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব; ফ্রিল্যান্সার হলে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ, ব্যাংক বা পেমেন্ট গেটওয়ের লেনদেন এবং কাজের আয়ের বিবরণ।
৩. ব্যাংক ও আর্থিক হিসাব: ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, সঞ্চয়পত্র, আমানত, মুনাফা, লভ্যাংশ এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদ থেকে পাওয়া আয়ের তথ্য।
৪. উৎসে কর ও অগ্রিম করের তথ্য: বেতন, ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র বা অন্য কোনো উৎস থেকে কর কেটে রাখা হলে তার প্রমাণ এবং আগে কর পরিশোধ করে থাকলে সেই তথ্য।
৫. বিনিয়োগ ও ব্যয়ের তথ্য: কর রেয়াত পাওয়ার যোগ্য বিনিয়োগ থাকলে তার প্রমাণ, প্রযোজ্য জীবনযাপন ব্যয়ের বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য।
৬. সম্পদ ও দায়ের বিবরণ: নগদ টাকা, ব্যাংক জমা, জমি, বাড়ি, গাড়ি, স্বর্ণালংকার, শেয়ার বা অন্যান্য সম্পদ এবং ঋণ বা দায়ের তথ্য। আপনার ক্ষেত্রে সম্পদ ও দায়ের বিবরণ দাখিলের শর্ত প্রযোজ্য হলে এগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখবেন, অনলাইন রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সব কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না—এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য দেখে সঠিকভাবে ফরম পূরণ করতে হয়। তবে যাচাইয়ের প্রয়োজনে কাগজপত্র নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।
আয় না থাকলে প্রথম রিটার্নে কী দেখাবেন?
নতুন টিআইএনধারীদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো, টিআইএন করার পরও যদি কোনো আয় না থাকে, তাহলে রিটার্নে কী দেখাতে হবে?
এ ক্ষেত্রে প্রকৃত তথ্য দিতে হবে। আয় না থাকলে আয় আছে বলে দেখানো যাবে না। আবার ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়, জমি, বাড়ি বা অন্য কোনো সম্পদ থাকলে সেগুলো প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী উল্লেখ করতে হবে। আয় না থাকা এবং সম্পদ না থাকা এক বিষয় নয়।
উদাহরণ হিসেবে, একজন ব্যক্তি চাকরি করেন না এবং ব্যবসাও নেই। কিন্তু তাঁর ব্যাংক হিসাবে সঞ্চয় রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তাঁর আয় না থাকলেও সম্পদের তথ্য প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী দেখাতে হতে পারে। একইভাবে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ, উপহার, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ বা সম্পদ পেয়ে থাকলে তার প্রকৃতি ও প্রমাণ অনুযায়ী সঠিকভাবে তথ্য দিতে হবে।
রিটার্নে কোনো তথ্য অনুমান করে লেখা উচিত নয়। যে আয়, সম্পদ বা দায় বাস্তবে রয়েছে, সেটিই প্রযোজ্য নিয়মে দেখাতে হবে।
প্রথমবার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম
২০২৬–২৭ করবর্ষে নির্ধারিত ব্যতিক্রম ছাড়া স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক। প্রথমবার রিটার্ন জমা দিতে সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে।
প্রথম ধাপ: ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করুন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: নতুন ব্যবহারকারী হিসেবে নিবন্ধন করুন।
‘I am not registered yet’ অপশনে গিয়ে আপনার ১২ ডিজিটের টিআইএন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিন। এরপর মোবাইলে পাওয়া ওটিপি দিয়ে যাচাই সম্পন্ন করে পাসওয়ার্ড সেট করুন।
তৃতীয় ধাপ: নিজের প্রোফাইল যাচাই করুন।
নিবন্ধনের পর টিআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, কর অঞ্চল বা সার্কেল এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সঠিক আছে কি না যাচাই করুন।
চতুর্থ ধাপ: আয় ও বিনিয়োগের তথ্য দিন।
রিটার্ন সাবমিশন অংশে গিয়ে প্রযোজ্য আয়খাত নির্বাচন করুন। চাকরি, ব্যবসা, পেশা, বাড়িভাড়া, আর্থিক সম্পদ বা অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া আয় যথাযথ খাতে উল্লেখ করুন। প্রযোজ্য হলে বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্যও পূরণ করুন।
পঞ্চম ধাপ: করের হিসাব যাচাই করুন।
সিস্টেমে প্রদর্শিত আয়, কর, উৎসে কাটা কর, অগ্রিম কর ও অন্যান্য সমন্বয়ের তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। কোনো কর বাকি থাকলে নির্দেশনা অনুযায়ী পরিশোধ করুন।
ষষ্ঠ ধাপ: রিটার্ন জমা দিয়ে প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
সব তথ্য যাচাই শেষে রিটার্ন সাবমিট করুন। জমা সম্পন্ন হলে প্রাপ্ত acknowledgement receipt বা প্রাপ্তিস্বীকারপত্র এবং প্রযোজ্য কর সনদ ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
পরামর্শ: এনবিআরের FAQ অনুযায়ী ই-রিটার্নের অনেক সুবিধা মোবাইলে সীমিত থাকতে পারে। তাই ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করাই সুবিধাজনক।
প্রথম রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা কখন?
রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে নতুন করদাতাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাধারণ ব্যক্তি করদাতার জন্য করদিবসের নিয়ম থাকলেও যিনি আগে কখনো রিটার্ন জমা দেননি, তাঁর ক্ষেত্রে বিশেষ সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে।
এনবিআরের প্রকাশিত FAQ-তে প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারীর জন্য আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩০ জুনের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে আপনার টিআইএন নিবন্ধনের ধরন, সংশ্লিষ্ট করবর্ষ এবং সর্বশেষ কার্যকর নির্দেশনা অনুযায়ী সময়সীমা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর বা অন্যান্য আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই শেষ সময়ের অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত করে রাখা ভালো।
নতুন TIN করেছেন, কিন্তু আর রিটার্ন দিতে চান না—কী করবেন?
কেউ হয়তো সাময়িক প্রয়োজনে টিআইএন করেছেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর আর করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত থাকার প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে শুধু রিটার্ন জমা বন্ধ করে দেওয়া সঠিক পদ্ধতি নয়।
আয়কর আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলের উপকর কমিশনারের কাছে টিআইএন নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যায়। যেমন, কোনো ব্যক্তি আর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতার আওতায় না থাকলে এবং আইনগত অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে আবেদন বিবেচিত হতে পারে।
তবে টিআইএন বাতিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয় না। কর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন এবং প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের বিষয় রয়েছে। তাই টিআইএন করার পর আর ব্যবহার না করলেও নিজের করসংক্রান্ত অবস্থান যাচাই করা জরুরি।
প্রথম রিটার্ন দেওয়ার আগে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কিছু ভুলের কারণে পরবর্তী সময়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আয় না থাকলেও অনুমান করে আয় দেখাবেন না।
ব্যাংক হিসাব বা সম্পদের তথ্য গোপন করবেন না।
আগের বছরের সম্পদ ও দায়ের সঙ্গে বর্তমান হিসাবের অসামঞ্জস্য থাকলে তার কারণ বুঝে নিন।
উৎসে কাটা করের তথ্য প্রমাণ ছাড়া দাবি করবেন না।
অন্যের মোবাইল নম্বর বা ভুল ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ই-রিটার্ন নিবন্ধন করবেন না।
রিটার্ন সাবমিট করার আগে সব তথ্য পুনরায় যাচাই করুন।
রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: নতুন TIN করলেই কি প্রথম বছর রিটার্ন দিতে হবে?
উত্তর: টিআইএন নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আয়কর আইনের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তাই টিআইএন করার পর নিজের ক্ষেত্রে রিটার্ন বাধ্যতামূলক কি না, তা যাচাই করতে হবে।
প্রশ্ন: প্রথম রিটার্নে আয় শূন্য দেখানো যাবে?
উত্তর: বাস্তবে কোনো আয় না থাকলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী আয় শূন্য দেখানো যায়। তবে সম্পদ, ব্যাংক জমা ও অন্যান্য তথ্য থাকলে সেগুলোও সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।
প্রশ্ন: প্রথম রিটার্ন জমা দিতে কি কর দিতে হবে?
উত্তর: সব ক্ষেত্রে নয়। হিসাব অনুযায়ী কোনো কর প্রদেয় না থাকলে কর পরিশোধের প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আলাদা বিষয়।
প্রশ্ন: ই-রিটার্ন জমা দিতে কি সব কাগজপত্র আপলোড করতে হয়?
উত্তর: এনবিআরের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সময় সাধারণভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না। তবে তথ্য পূরণের সময় প্রমাণপত্র দেখে সঠিক তথ্য দিতে হবে এবং সেগুলো নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।
প্রশ্ন: প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কী প্রমাণ পাওয়া যায়?
উত্তর: অনলাইনে রিটার্ন জমা সম্পন্ন হলে acknowledgement receipt বা প্রাপ্তিস্বীকারপত্র পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী আয়কর সনদও ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা যায়।
শেষ কথা
নতুন টিআইএন করার পর প্রথম আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে নিজের আয়, সম্পদ, দায়, ব্যাংক হিসাব এবং করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। আয় না থাকলেও প্রকৃত তথ্য দিয়ে রিটার্ন প্রস্তুত করতে হতে পারে। আবার রিটার্ন জমা দেওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রত্যেককে কর দিতে হবে। সঠিক তথ্য দিয়ে নির্ধারিত নিয়মে রিটার্ন জমা দিলে ভবিষ্যতে ব্যাংকিং, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে করসংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সহজ হয়।