বই উপহার দেয়ার দিন আজ
লাইফস্টাইল · 2026-10-31T03:23:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
হ্যালোইনের আনন্দে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
হ্যালোইন বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিচিত্র পোশাক, ভৌতিক সাজসজ্জা আর শিশুদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ক্যান্ডি সংগ্রহের দৃশ্য। তবে এই উৎসবের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলতে রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর পালিত হয় ‘বুকস ফর ট্রিটস ডে’ বা বই উপহার দেওয়ার দিবস। এদিন ক্যান্ডি ও চকলেটের পরিবর্তে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন কিংবা পুরোনো গল্পের বই। এর মধ্য দিয়ে শিশুদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি এবং কল্পনাশক্তি বিকাশের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো হ্যালোইনের প্রচলিত আনন্দের সঙ্গে বই পড়ার অভ্যাসকে যুক্ত করা। মিষ্টি বা চকলেটের মতো সাময়িক আনন্দের পরিবর্তে শিশুদের এমন উপহার দেওয়া, যা তাদের কল্পনার জগৎকে সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন কিছু জানার আগ্রহ তৈরি করবে।
ধরা যাক, হ্যালোইনের পোশাক পরে কোনো শিশু একটি বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ল। সে হয়তো আশা করছে, হাতে পাবে ক্যান্ডি কিংবা চকলেট। কিন্তু তার বদলে বাড়ির মালিক যদি তুলে দেন একটি গল্পের বই, তাহলে সেটি হতে পারে তার জন্য আনন্দের নতুন অভিজ্ঞতা। বইয়ের পাতায় অপেক্ষা করতে পারে ড্রাগন, গোয়েন্দা কিংবা কথা বলতে পারা মজার সব প্রাণীর গল্প। অপ্রত্যাশিত এই উপহার শিশুটির মনে তৈরি করতে পারে নতুন কৌতূহল। সেই বই থেকেই জন্ম নিতে পারে গল্পের প্রতি ভালো লাগা কিংবা নিয়মিত পড়ার অভ্যাস।
দিবসটির সূচনা সম্পর্কে ডেজ অব দ্য ইয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে শহরের লেখক রেবেকা মরগান ‘বুকস ফর ট্রিটস’ উদ্যোগটি শুরু করেন। হ্যালোইনে শিশুদের ক্যান্ডির পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী আনন্দের কিছু দেওয়ার চিন্তা থেকেই তাঁর এই উদ্যোগ।
ওই উদ্যোগের শুরুতে তিনি স্থানীয় একটি লাইব্রেরির বই বিক্রির আয়োজন থেকে ভালো অবস্থায় থাকা পুরোনো বই সংগ্রহ করেন। পরে শিশুদের বয়স ও পড়ার উপযোগিতা অনুযায়ী বইগুলো আলাদা করে হ্যালোইনে বাড়ি বাড়ি আসা শিশুদের মধ্যে বিতরণ করেন। শিশুরা নিজেদের পছন্দ ও পড়ার সামর্থ্য অনুযায়ী বই বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়।
ডেজ অব দ্য ইয়ারের বর্ণনায় বলা হয়েছে, উদ্যোগটি শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। বই পেয়ে শিশুরা আনন্দিত হয়, অন্যদিকে অভিভাবকেরাও ক্যান্ডির বিকল্প হিসেবে বিষয়টিকে স্বাগত জানান।
একই সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে রেবেকা মরগান ‘বুকস ফর ট্রিটস’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও স্কুলে শিশুদের বই উপহার দেওয়ার ধারণা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চল এবং কানাডাতেও উদ্যোগটি পরিচিতি পায়।
বর্তমানে বিভিন্ন পরিবার ও কমিউনিটি নতুন-পুরোনো বই সংগ্রহ করে শিশুদের মধ্যে বিতরণ করে দিবসটি পালন করে। কেউ বাড়ির সামনে বই সাজিয়ে রাখেন, কেউ আয়োজন করেন বই বিনিময়ের, আবার কেউ শিশুদের জন্য বই পৌঁছে দেন স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।
বই উপহার দেওয়ার এই উদ্যোগ শুধু একটি দিনের আয়োজন নয়; বরং শিশুদের হাতে বই তুলে দিয়ে তাদের কল্পনাশক্তি, কৌতূহল ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার একটি ইতিবাচক প্রচেষ্টা। একটি ছোট গল্পের বইও কোনো শিশুর মনে পড়ার প্রতি ভালোবাসার শুরু হতে পারে। ‘বুকস ফর ট্রিটস ডে’ সেই বার্তাই সামনে নিয়ে আসে।