কম পাসের হারই শিক্ষার বাস্তব অবস্থা, বললেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি
শিক্ষা · 2026-11-01T06:05:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কম পাসের হারকে শিক্ষার প্রকৃত চিত্র হিসেবে দেখছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তাঁর মতে, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনা ও বিভিন্ন চাপের কারণে পরীক্ষার ফল প্রভাবিত হয়েছে। এবার নিরপেক্ষভাবে খাতা মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার কারণে প্রকৃত ফল উঠে এসেছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কম পাসের হারকে শিক্ষার বাস্তব অবস্থা হিসেবে দেখছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তাঁর মতে, এবারের ফল কোনো বিপর্যয় নয়; বরং শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দৈনিক আমাদের বার্তাকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। উপাচার্য বলেন, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাপ এবং নানা ধরনের প্রভাবের কারণে পরীক্ষার প্রকৃত ফল সব সময় উঠে আসেনি। এবার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশে খাতা মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার কারণে সঠিক ফল প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, অতীতের পরিস্থিতির জন্য শিক্ষার্থীদের দায়ী করা ঠিক হবে না। বরং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ এবং শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে শেখানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সীমাবদ্ধতা ছিল। শিক্ষার্থীদের শিখনফল নিশ্চিত করতে না পারার দায় প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদেরও নিতে হবে।
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার কারণ নেই। শিক্ষামন্ত্রী ইতিমধ্যে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অনেক শিক্ষার্থী আবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলের উদাহরণ টেনে উপাচার্য বলেন, আগে পাসের হার ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত থাকলেও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা বাড়ানোর পর পাসের হার কমেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাস কোর্সে এবার ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়েও পাসের হার কমেছে। তবে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ফলাফল আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কম পাসের হারের কারণে কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও কথা বলেন উপাচার্য। তাঁর ধারণা, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হলে উত্তীর্ণের সংখ্যা বাড়তে পারে। এতে কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীসংখ্যাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রায় আড়াই হাজার কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীসংখ্যা কমে যাওয়া বা কলেজের আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের আলাদা করে পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা পরবর্তী পরীক্ষায় ভালো করতে পারে।
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিক্ষকদের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কলেজে ডেকে এনে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের আলাদা করে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও দিকনির্দেশনা দিতে হবে। প্রয়োজনে কলেজের নিয়মিত সময়ের বাইরেও ছুটির দিনে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা থেকে শিক্ষকদের তাঁদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। শিক্ষার্থীদের মনোবল ধরে রাখা এবং পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাঁর মতে, শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া, কলেজগুলোর পাঠদানে গুরুত্ব দেওয়া এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা জরুরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে পরীক্ষার ফল আরও ভালো হবে।