এইচএসসির ফল বিপর্যয়ে শিক্ষার্থী সংকটে পড়বে যেসব প্রতিষ্ঠান
শিক্ষা · 2026-11-01T05:05:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়ায় দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষায় ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ১৮ লাখ ৭ হাজার ৫৭৬টি। বিপরীতে এবার পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনেক কলেজে আসন ফাঁকা থাকার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়ায় দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এবার পাস করা সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকতে পারে। এতে বিশেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলো চাপে পড়তে পারে।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে মোট ১৮ লাখ ৭ হাজার ৫৭৬টি। সে হিসাবে আসনসংখ্যার তুলনায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ লাখ ৬০ হাজার ৮৯১টি কম।
উচ্চশিক্ষার মোট আসনের সবচেয়ে বড় অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে। এসব প্রতিষ্ঠানে স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতক কারিগরি বা সমমান পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে আসন রয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি। অথচ এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। এ হিসাবে পাস করা সব শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ভর্তি হলেও প্রায় ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪১০টি আসন ফাঁকা থাকবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গত দুই বছর ধরেই অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকছে। চলতি বছর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে। এসব কলেজের অধিকাংশই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বেতন ও ফি দিয়ে পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করে। শিক্ষার্থী কমে গেলে আয় কমবে। এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ নিয়মিত ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ ফেরদৌস বলেন, এ বছর এইচএসসিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর তুলনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন বেশি। ফলে কয়েক লাখ আসন ফাঁকা থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে অধিভুক্ত কলেজগুলো সংকটে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কারিগরি বিষয়ে নতুন কোর্স চালু করে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় আনা যায় কি না, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ থাকবে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে সুযোগ না পেলে আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী অনেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির চেষ্টা করবেন। এসব প্রতিষ্ঠানে সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ভর্তি হতে পারেন।
বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতেও শিক্ষার্থী সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১১৬টি সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট আসন ১১ হাজার ৩৭৮টি। এর মধ্যে ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৫ হাজার ১০০টি এবং ৬৯টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৬ হাজার ২৭৮টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ডেন্টাল কলেজে ৫৪৫টি, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ১ হাজার ৩৫০টি এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজে ৩৫০টি আসন রয়েছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিশেষ করে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে আসন রয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৫টি। ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্সে আসন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৯টি এবং পাস কোর্সে ১ হাজার ১৬০টি। ঢাকার সরকারি সাত কলেজে আসন রয়েছে ২৩ হাজার ৬৩০টি। এ ছাড়া ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মাদ্রাসাগুলোতে ৬৪ হাজার ৫২৯টি এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৭ হাজার ৫৯৩টি আসন রয়েছে।
প্রকৌশল, কারিগরি ও বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও রয়েছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭২০টি, টেক্সটাইল কলেজে ৭২০টি, মেরিন কলেজে ৬৬০টি এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ৩ হাজার ৭৯০টি আসন রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন ৮০০টি। নার্সিং ও মিডওয়াইফারিতে রয়েছে ৫ হাজার ৬০০টি আসন।
সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় আসন ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভর্তি কার্যক্রমে প্রতিযোগিতার ধরন বদলে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী সংকটে অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় নির্বাহও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।