শ্রীমঙ্গলের সময়

এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীরাও কি দিতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা?

শিক্ষা · 2026-11-04T07:59:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষার আয়োজন করছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষা নিয়ে একই মাসের শেষ দিকে ফল প্রকাশের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে এর আগেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ায় বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ পরীক্ষা আয়োজন এবং একই মাসের শেষ দিকে ফল প্রকাশের প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর আগেই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ায় বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের চলতি শিক্ষাবর্ষেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ ডিসেম্বর আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। ১২ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ইউনিট, ১৯ ডিসেম্বর কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট, ২২ ডিসেম্বর চারুকলা ইউনিট এবং ২৬ ডিসেম্বর ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অনলাইনে ভর্তির আবেদন শুরু হবে ১১ নভেম্বর, চলবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

বিশেষ পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সূচি কাছাকাছি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এসব ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ডিসেম্বর থেকে। সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৪ ডিসেম্বর আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময়ের ওপর নির্ভর করবে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টি।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিট এবং ১৮ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। একই মাসের ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা হবে ১২ ডিসেম্বর। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শুরু হবে ২ জানুয়ারি। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ভর্তি পরীক্ষা ১, ২, ৩ ও ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২ জানুয়ারি কৃষি গুচ্ছের নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৮ জানুয়ারি। ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট এবং ১৬ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। একই দিনে, ৮ জানুয়ারি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ১৪ জানুয়ারি এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ৫ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি আয়োজনের সূচি রয়েছে।

এ বিষয়ে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আলমগীর বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁদের চিন্তাভাবনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি সংগ্রহ করে শিক্ষাক্রম-সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যাতে চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার সময় পেছানো বা বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনা করা হতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিক্ষামন্ত্রী জানাতে পারবেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই বিবেচ্য। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবার আগে ভর্তি পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে, এটি স্বাভাবিক। তবে এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদেরও ভর্তির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের দাবি ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।

বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের চলতি শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে বিশেষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি সমন্বয় করা যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত