শ্রীমঙ্গলের সময়

এইচএসসিতে ইংরেজি-আইসিটিতেই অকৃতকার্য ৩ লাখ ৮২ হাজার শিক্ষার্থী

শিক্ষা · 2026-10-31T06:34:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ইংরেজিতে ফেল ২ লাখ ৪৩ হাজার, আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার; এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পুনঃপরীক্ষার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে এ দুই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে সম্মিলিত পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।

বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, ইংরেজিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আইসিটি। এ দুই বিষয়ে মোট ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন অকৃতকার্য হয়েছেন, যা সামগ্রিক অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশ।

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে ফলাফল-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর গত দুই দশকে পাসের হার এত নিচে নামেনি।

বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭১৪ জন। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২০ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২১ জন।

এ ছাড়া মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় তিনি ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।

এদিকে, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে যেসব শিক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে পরীক্ষার নিয়ম, সময়সূচি ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার জন্য শিক্ষা বোর্ডের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত