খেলোয়াড় থেকে কোচ, ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলে ৫১ জনকে মাঠছাড়া করলেন রেফারি
খেলা · 2026-11-04T19:25:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল প্রতিযোগিতায় উবেরল্যান্ডিয়া ও মামোরের ম্যাচে ৫১টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। ৩-১ গোলে মামোরের এগিয়ে যাওয়ার পর গোল উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৪৩ জন খেলোয়াড় ও আটজন কোচিং স্টাফের সদস্য বহিষ্কৃত হন। আগের রেকর্ড ছিল ৩৬টি লাল কার্ডের।
ব্রাজিলের যুব ফুটবলে ঘটেছে নজিরবিহীন ঘটনা। উবেরল্যান্ডিয়া ও মামোরের মধ্যকার অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল ম্যাচে দেখানো হয়েছে ৫১টি লাল কার্ড। দুই দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফের সদস্যরাও জড়িয়েছেন সংঘর্ষে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ রাখতে হয় খেলা। একপর্যায়ে মাঠে চেয়ার ও স্ট্রেচার ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।
গত রোববার (১ নভেম্বর) ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের অনূর্ধ্ব-২০ প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হয় উবেরল্যান্ডিয়া ও মামোরে। উবেরল্যান্ডিয়ার মাঠ পারকে দো সাবিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় মামোরে। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মামোরের তৃতীয় গোলের উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ম্যাচ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোল উদ্যাপনের সময় মামোরের খেলোয়াড় দাভি উবেরল্যান্ডিয়ার ডাগআউটের দিকে উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি করেন এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উবেরল্যান্ডিয়ার গোলকিপিং কোচ পাওলো সার্জিও দিয়াস দোস সান্তোস মাঠে প্রবেশ করে ওই খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হন। এরপর দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দ্রুতই তা পুরো মাঠে ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘুষি ও লাথি বিনিময় হয়। মাঠে থাকা চেয়ার, স্ট্রেচার ও অন্যান্য সরঞ্জামও ছোড়াছুড়ি করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মাঠে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন বলবয়ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি সামরিক পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়। সংঘর্ষের কারণে খেলা প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে।
ম্যাচের রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোসঘিচ মোদেস্তোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মোট ৫১ জনকে বহিষ্কারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জন খেলোয়াড় এবং আটজন কোচিং স্টাফের সদস্য। তবে সব লাল কার্ড সংঘর্ষের সময় দেখানো হয়নি; কয়েকজন খেলোয়াড়কে এর আগেই ভিন্ন ঘটনায় বহিষ্কার করা হয়েছিল। ম্যাচের নথিতে সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘুষি ও লাথি দিয়ে প্রতিপক্ষকে আঘাত করার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ফুটবলে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ বহিষ্কারের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ২০১১ সালে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ক্লাব আতলেতিকো ক্লেপোলে ও ভিক্টোরিয়ানো আরেনাসের ম্যাচে ৩৬ জন খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করা হয়েছিল। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও ওই ঘটনাকে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ খেলোয়াড় বহিষ্কারের রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এবার ব্রাজিলের ম্যাচে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ভাঙা দরজা, জানালা, ঝরনা, বেঞ্চ, টেবিল ও চেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য এসেছে। এ ছাড়া ম্যাচের রেফারির বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও সামনে এসেছে।
ঘটনার পর সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় উবেরল্যান্ডিয়া। ক্লাবটির সিদ্ধান্তের ফলে মামোরে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ পায়। উবেরল্যান্ডিয়ার পক্ষ থেকে এটিকে খেলোয়াড়সংকটের কারণে প্রতিপক্ষের প্রতি ক্রীড়াসুলভ আচরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ম্যাচের সংঘর্ষ ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে মিনাস জেরাইসের ক্রীড়া বিচার বিভাগের।