শিক্ষা কমিশন গঠন করতে চান না শিক্ষামন্ত্রী, জানালেন কারণ
শিক্ষা · 2026-11-02T12:07:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
শিক্ষা কমিশন গঠন করতে চান না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এটি কোন দিকে যাবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তাই অতীত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে শিক্ষা কমিশন গঠনের বিষয়ে আগ্রহী নন তিনি।
শিক্ষা কমিশন গঠন করতে চান না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষা কমিশন গঠনের কথা থাকলেও তিনি তা করেননি এবং করতেও চান না। কারণ, বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, ভবিষ্যতে এটি কোন দিকে যাবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা কমিশন করার কথা ছিল, কিন্তু আমি তা করিনি। আমি করতে চাচ্ছি না। আমি একটা এডুকেশন কমিশন করলাম, কিন্তু যাদের দিয়ে করলাম তারা হলেন আজকের অবস্থানে জ্ঞানী ব্যক্তি। আজকের অবস্থানে যিনি জ্ঞানী ব্যক্তি, তিনি অতীতের ওপর নির্ভর করে জ্ঞানী। কিন্তু এই এডুকেশন সিস্টেম যেভাবে ট্রান্সফর্ম করছে, এখন আমরা তো জানি না ভবিষ্যতে কোনদিকে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য প্রচারের ধরন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তাঁর বক্তব্য ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ওনারা ফতোয়া দিয়ে দিলেন কোনো জেন্ডারে আমি বিশ্বাসী। আমি বিশ্বাস করি শিক্ষার কোনো জেন্ডার নেই। শিক্ষার কোনো লিঙ্গ থাকে না। এডুকেশন ইজ অ্যা কমন কমডিটি। আমার বক্তব্য ভিন্নভাবে প্রচার করেছে। এই হলো আমাদের গণমাধ্যমের অবস্থা।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষায় কোনো জেন্ডার আছে কি না, সেটিই ছিল তাঁর বক্তব্যের বিষয়। ওপেন ইউনিভার্সিটিতে সবাই পড়ার সুযোগ পাবেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, একজন ব্যক্তি যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিকুলাম পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বিদেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা থাকলে এ বিষয়ে আরও ভালোভাবে বোঝা যেত। এ জন্য ল্যাপটপের মাধ্যমে বিদেশের শিক্ষাব্যবস্থা দেখার সুযোগ থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগামীর বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য কাজ করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মরিয়া হয়ে এ জন্য কাজ করছেন। যদি কেউ শিক্ষকদের উন্নয়নের চিন্তা না করে, তাহলে তাকে কি আপনারা মন্ত্রিত্ব দিতেন?’
শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এআইয়ের ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষায় এআইয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সবচেয়ে বড় মন্ত্রণালয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নায়েমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন), কোর্স উপদেষ্টা এবং কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর প্রিম রিজভী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নায়েমের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের কোর্স পরিচালক প্রফেসর ড. নাসিমা খান।