আইএনএস বিক্রান্তে প্রথমবার অবতরণ করল রাফাল-এম যুদ্ধবিমান
বিশ্ব · 2026-11-03T12:20:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ভারতের নিজস্ব বিমানবাহী রণতরি আইএনএস বিক্রান্তে প্রথমবারের মতো সফলভাবে অবতরণ করেছে ফ্রান্সের তৈরি রাফাল-এম যুদ্ধবিমান। গত ২৯ অক্টোবর প্রথম প্রচেষ্টাতেই এই অবতরণ সফল হয়। ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান বহরে রাফাল-এম যুক্ত করার প্রস্তুতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিমানবাহী রণতরিতে যুদ্ধবিমান ওঠানামার সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা চালানো হয়। এর আগে অক্টোবরের মাঝামাঝি গোয়ার আইএনএস হানসার কাছে একটি রাফাল-এম উড়তে দেখা যায়। সেখানে বিমানবাহী রণতরির জন্য যুদ্ধবিমান পরীক্ষার উপকূলভিত্তিক কেন্দ্র রয়েছে। ওই কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে আইএনএস বিক্রান্তে অবতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের এপ্রিলে নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে। চুক্তির মূল্য ৭৫০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ২২টি রাফাল-এম যুদ্ধবিমান এবং চারটি দুই আসনের প্রশিক্ষণ বিমান রয়েছে। ২০২৯ সাল থেকে এসব বিমান সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।
বিমানবাহী রণতরিতে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি রাফাল-এম ভারতের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে দেশটির আইএনএস বিক্রান্ত ও আইএনএস বিক্রমাদিত্য রণতরিতে রাশিয়ার তৈরি মিগ-২৯কে ও মিগ-২৯কেইউবি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে।
রাফাল-এম ও যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেটের মধ্যে প্রতিযোগিতার পর ২০২২ সালে পরীক্ষার ভিত্তিতে রাফালকে বেছে নেয় ভারত। রাফাল নির্বাচনের অন্যতম সুবিধা হলো, দেশটির বিমানবাহিনীতেও একই পরিবারের ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে। ফলে রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সমন্বয় সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের নৌবাহিনীর জন্য একসময় দুই বিমানবাহী রণতরিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ৫৭টি যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা ছিল। পরে সেই চাহিদা কমিয়ে ২৬টিতে নামিয়ে আনা হয়। তবে নিজস্ব টুইন ইঞ্জিন ডেক বেসড ফাইটার বা টিইডিবিএফ প্রকল্পে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও রাফাল-এম কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরেও রাফালের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দেশটি আরও ১১৪টি রাফাল কেনার উদ্যোগ বিবেচনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এর মধ্যে ৯০টি যুদ্ধবিমান ভারতে তৈরি হওয়ার কথা। নৌবাহিনীর রাফাল-এম চুক্তিতেও ভারতীয় অস্ত্র সংযোজনের প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে ফরাসি উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দাসো অ্যাভিয়েশন ভারতের টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমসের সঙ্গে রাফালের কাঠামো তৈরির জন্য উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তুলছে। এতে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
আইএনএস বিক্রান্তে রাফাল-এমের সফল অবতরণ তাই শুধু একটি পরীক্ষামূলক সাফল্য নয়; ভারতের নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনারও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।