কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল সময়সূচি: আউটডোর, ইনডোর ও জরুরি সেবা
স্বাস্থ্য · 2026-11-03T12:49:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়মিত বহির্বিভাগ সাধারণত সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চালু থাকে; শুক্রবার ও সরকারি ছুটিতে আউটডোর বন্ধ থাকতে পারে। জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা সেবা দেয় এবং ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত থাকে। টিকিট কাউন্টার, বিভাগভিত্তিক চিকিৎসক ও দর্শনার্থীর সময় নিশ্চিত করতে হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
ঢাকায় স্বল্প খরচে সরকারি চিকিৎসাসেবা পেতে অনেক রোগীর ভরসার জায়গা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কেউ বহির্বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে চান, কেউ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে আসেন, আবার কেউ গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে জরুরি বিভাগে যান। তবে হাসপাতালে যাওয়ার আগে আউটডোর কখন খোলা থাকে, শুক্রবার চিকিৎসক দেখানো যায় কি না, জরুরি বিভাগ কতক্ষণ চালু থাকে এবং ভর্তি রোগীদের সেবা কীভাবে পরিচালিত হয়—এসব তথ্য জানা থাকলে রোগী ও স্বজনদের সময় এবং ভোগান্তি দুটোই কমে।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের বর্তমান সরকারি নাম কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। এটি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সরকারি হাসপাতাল। ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিউ এয়ারপোর্ট রোডে অবস্থিত হাসপাতালটিতে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি, ফার্মেসি ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা রয়েছে।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আউটডোর সময়সূচি
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগ বা আউটডোরে সাধারণত সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। প্রচলিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার এবং সরকারি ছুটির দিনে নিয়মিত বহির্বিভাগ বন্ধ থাকে। সাপ্তাহিক অন্যান্য কার্যদিবসে রোগীরা বহির্বিভাগে টিকিট সংগ্রহ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
তবে হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু নির্ধারিত শেষ সময় জানলেই হবে না। টিকিট বিতরণ, বিভাগভিত্তিক রোগী দেখার সময় এবং চিকিৎসকের উপস্থিতির সময় আলাদা হতে পারে। রোগীর চাপ বেশি থাকলে নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার আগেই কোনো বিভাগের সিরিয়াল বা টিকিট বিতরণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে সকালবেলা হাসপাতালে পৌঁছানো ভালো।
বিশেষ করে দূর থেকে আসা রোগীদের জন্য আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের সময়সূচি জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিভাগে নির্দিষ্ট দিনে চিকিৎসক না থাকলে অথবা চিকিৎসকের দায়িত্বসূচিতে পরিবর্তন হলে রোগীকে অন্যদিন আসতে হতে পারে।
কুর্মিটোলা হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার কখন খোলা থাকে?
আউটডোরে চিকিৎসা নিতে হলে সাধারণত প্রথমে নির্ধারিত কাউন্টার থেকে বহির্বিভাগের টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। টিকিট সংগ্রহের পর রোগীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা চিকিৎসকের কক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয়।
টিকিট কাউন্টারের সুনির্দিষ্ট খোলার সময় এবং প্রতিদিন কতটি টিকিট দেওয়া হবে, তা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও রোগীর চাপ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সকাল সাড়ে ৭টা থেকে টিকিট দেওয়া শুরু হয়—এমন কোনো সময়কে নিশ্চিত সরকারি সময়সূচি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। হাসপাতালে যাওয়ার আগে তথ্যকেন্দ্রে ফোন করে কাউন্টারের সময় জেনে নেওয়া যেতে পারে।
রোগীর সঙ্গে আগের প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষার রিপোর্ট, হাসপাতালের পুরোনো টিকিট এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য থাকলে চিকিৎসকের কাছে রোগের ইতিহাস বোঝানো সহজ হয়। নতুন রোগী হলে টিকিট সংগ্রহের সময় নিজের নাম, বয়স ও যোগাযোগের তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে কি আউটডোর খোলা থাকে?
সাধারণত শুক্রবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নিয়মিত বহির্বিভাগ বন্ধ থাকে। সরকারি ছুটির দিনেও নিয়মিত আউটডোর কার্যক্রম বন্ধ থাকতে পারে। ফলে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, নিয়মিত ফলোআপ বা নতুন করে চিকিৎসক দেখানোর জন্য শুক্রবার কিংবা সরকারি ছুটির দিনে যাওয়ার আগে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেওয়া উচিত।
তবে বহির্বিভাগ বন্ধ থাকার অর্থ হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকা নয়। জরুরি বিভাগ এবং ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা আলাদা ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। তাই গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ছুটির দিনের অপেক্ষা না করে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।
কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ কি ২৪ ঘণ্টা খোলা?
হ্যাঁ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার কথা সরকারি ও হাসপাতাল-সংক্রান্ত তথ্যসূত্রে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ রাত, দিন, শুক্রবার কিংবা সরকারি ছুটির দিনেও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে হাসপাতালে যাওয়া যায়।
দুর্ঘটনা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকে তীব্র ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, স্ট্রোকের লক্ষণ, গুরুতর আঘাত কিংবা প্রসবজনিত জরুরি জটিলতার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। এসব পরিস্থিতিতে বহির্বিভাগ খোলার জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। সরাসরি জরুরি বিভাগে যেতে হবে।
জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে গেলে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। তবে সব রোগীর চিকিৎসা একই সময়ে বা একই নিয়মে সম্পন্ন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রোগীর অবস্থা, চিকিৎসকের মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং হাসপাতালের সক্ষমতার ওপর পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ভর করে।
জরুরি বিভাগে যাওয়ার সময় রোগীর আগের প্রেসক্রিপশন, নিয়মিত সেবন করা ওষুধের নাম, অ্যালার্জির তথ্য এবং পূর্বের পরীক্ষার রিপোর্ট সঙ্গে থাকলে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হতে পারে। তবে গুরুতর অবস্থায় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে চিকিৎসা নিতে দেরি করা যাবে না।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ইনডোর বা ভর্তি সেবা
যেসব রোগীর হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন, তাঁদের জন্য ইনডোর বা অন্তর্বিভাগের ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে রোগী ভর্তি হলে ওয়ার্ডে অবস্থান করে চিকিৎসা, নার্সিং সেবা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা গ্রহণ করতে পারেন।
ইনডোর সেবা বহির্বিভাগের মতো নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা হাসপাতালের দায়িত্বসূচি অনুযায়ী দিন-রাত পরিচালিত হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগের ধরন এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে হাসপাতালে ভর্তি হলেই নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা বেড পাওয়া নিশ্চিত—এমন নয়। বেডের প্রাপ্যতা, রোগীর অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সক্ষমতা বিবেচনা করে ভর্তি ও স্থান নির্ধারণ করা হয়। কোনো বিশেষ বিভাগে বেড না থাকলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।
ভর্তি রোগী দেখতে যাওয়ার সময়সূচি
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। অনেক হাসপাতালেই রোগীর বিশ্রাম, চিকিৎসার পরিবেশ এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য দর্শনার্থীর সংখ্যা ও প্রবেশের সময় সীমিত রাখা হয়।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের দর্শনার্থীদের জন্য দুপুর ১টা থেকে ২টা এবং বিকেল ৫টা থেকে ৭টা—এমন সময়সূচি বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ থাকলেও বর্তমান সরকারি নোটিশে তা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এই সময়গুলোকে হাসপাতালের নিশ্চিত বা স্থায়ী নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। রোগী দেখতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বা হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্রে ফোন করে বর্তমান নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো।
রোগী দেখতে গেলে অযথা ভিড় না করা, চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা এবং ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে বা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থী প্রবেশে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।
কুর্মিটোলা হাসপাতালে কোন কোন বিভাগে চিকিৎসা পাওয়া যায়?
কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল একটি সরকারি সাধারণ হাসপাতাল। এখানে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা ও বিভাগ রয়েছে। রোগীর সমস্যা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকে।
সাধারণভাবে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও প্রসূতি, শিশু, অর্থোপেডিকস, চক্ষু, নাক-কান-গলা, চর্ম ও যৌনরোগসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার কথা হাসপাতাল-সংক্রান্ত তথ্যসূত্রে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিবন্ধনে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি, ফার্মেসি ও অপারেশন থিয়েটারের সুবিধা থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
তবে সব বিভাগের চিকিৎসক প্রতিদিন একই সময়ে রোগী দেখেন—এমন নয়। বিভাগভেদে চিকিৎসকের দায়িত্বসূচি, রোগী দেখার সময় এবং সেবার ধরন আলাদা হতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে চাইলে হাসপাতালে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সময়সূচি নিশ্চিত করা উচিত।
কুর্মিটোলা হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কখন করা যায়?
হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর সুযোগ রয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিবন্ধনে হাসপাতালটির প্যাথলজি সুবিধা থাকার তথ্য রয়েছে। তবে সব পরীক্ষা প্রতিদিন একই সময়ে করা হয় না। পরীক্ষার ধরন, নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা, ল্যাবের কার্যক্রম এবং জরুরি প্রয়োজন অনুযায়ী সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
সাধারণ পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ বা নির্ধারিত পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাগজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে যোগাযোগ করতে হয়। কোনো পরীক্ষার আগে খালি পেটে থাকতে হবে কি না, নমুনা দেওয়ার সময় কখন, রিপোর্ট কখন পাওয়া যাবে—এসব বিষয় পরীক্ষা অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দ্রুত করার ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে সব ধরনের পরীক্ষা ২৪ ঘণ্টা করা হয়—এমন দাবি করা ঠিক নয়। নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা করাতে চাইলে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে সময় ও প্রস্তুতির নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার আগে যা করবেন
প্রথমবার হাসপাতালে গেলে কোথায় টিকিট নিতে হবে, কোন বিভাগে যেতে হবে কিংবা কোন ভবনে পরীক্ষা করাতে হবে—এসব নিয়ে বিভ্রান্তি হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় প্রস্তুত রাখলে সময় বাঁচে।
আগের চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং নিয়মিত সেবন করা ওষুধের তালিকা সঙ্গে রাখুন। রোগী আগে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থাকলে পুরোনো টিকিট বা হাসপাতালের কাগজপত্রও সঙ্গে নেওয়া ভালো। সকালে আউটডোরে চিকিৎসা নিতে গেলে যতটা সম্ভব আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
হাসপাতালে গিয়ে দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে সিরিয়াল, পরীক্ষা কিংবা ভর্তি করানোর চেষ্টা করবেন না। কোনো সেবার জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তথ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। সরকারি ফি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হাসপাতালের নির্ধারিত কাউন্টার থেকে তথ্য নিন।
রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে আউটডোরের টিকিট সংগ্রহের লাইনে দাঁড়াবেন না। সরাসরি জরুরি বিভাগে যান। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সময় নষ্ট না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর
কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিউ এয়ারপোর্ট রোডে অবস্থিত। হাসপাতালের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তথ্যকেন্দ্রের টেলিফোন নম্বর ০২৫৫০৬২৩৮৮। হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার কথাও সরকারি ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে।
হাসপাতালের যোগাযোগের জন্য নিচের তথ্যগুলো ব্যবহার করতে পারেন:
হাসপাতালের নাম: কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল (কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল)
ঠিকানা: নিউ এয়ারপোর্ট রোড, কুর্মিটোলা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা-১২০৬
তথ্যকেন্দ্র: ০২৫৫০৬২৩৮৮
ই-মেইল: kurmitolahospital@hospi.dghs.gov.bd
সরকারি ওয়েবসাইট: https://kgh.dhaka.gov.bd/
হাসপাতালে যাওয়ার আগে ফোন করে আউটডোরের বর্তমান সময়সূচি, টিকিট কাউন্টার, নির্দিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক এবং দর্শনার্থীদের নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে দূর থেকে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে এই যোগাযোগ অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত ও সময় নষ্ট কমাতে পারে।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সময়সূচি নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আউটডোর কখন খোলা থাকে?
প্রচলিত সময়সূচি অনুযায়ী, আউটডোর সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চালু থাকে। তবে বিভাগ ও টিকিট কাউন্টারের সময় আলাদা হতে পারে। যাওয়ার আগে হাসপাতাল থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
কুর্মিটোলা হাসপাতাল কি শুক্রবার বন্ধ থাকে?
শুক্রবার সাধারণত নিয়মিত বহির্বিভাগ বন্ধ থাকে। তবে জরুরি বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালু থাকে।
কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ কি ২৪ ঘণ্টা খোলা?
হ্যাঁ, জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার তথ্য পাওয়া যায়। গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যেকোনো সময় জরুরি বিভাগে যেতে পারেন।
শনিবার কি আউটডোরে চিকিৎসা পাওয়া যায়?
প্রচলিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার ছাড়া অন্যান্য কার্যদিবসে আউটডোর চালু থাকে। তবে নির্দিষ্ট বিভাগ ও চিকিৎসকের উপস্থিতি আগে নিশ্চিত করা উচিত।
কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি রোগী দেখতে কখন যাওয়া যায়?
দর্শনার্থীদের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। অনলাইনে প্রচলিত কিছু সময়সূচি থাকলেও বর্তমান সময় নিশ্চিত না করে হাসপাতালে যাওয়ার আগে তথ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্রের নম্বর কত?
হাসপাতালের সরকারি ওয়েবসাইটে তথ্যকেন্দ্রের নম্বর ০২৫৫০৬২৩৮৮ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার আগে আউটডোর, জরুরি ও ইনডোর সেবার পার্থক্য জানা জরুরি। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য সকালে বহির্বিভাগে যাওয়া ভালো, আর গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যেকোনো সময় জরুরি বিভাগে যেতে হবে। টিকিট কাউন্টার, নির্দিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক এবং দর্শনার্থীদের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে বলে যাত্রার আগে হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।