ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধে পাকিস্তানের ক্ষতি ৪০ বিলিয়ন ডলার
বিশ্ব · 2026-11-03T12:10:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ভারতের সঙ্গে প্রায় সাত বছর ধরে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ব্যবসায়ী সংগঠনের এক নেতা। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় চালু হলে পাকিস্তানের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটন খাত উপকৃত হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সোমবার (২ নভেম্বর) পাক-ভারত বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নূর মুহাম্মদ কাসুরি এ তথ্য জানান। তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
কাসুরি বলেন, ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত হয়ে যায়। এরপর থেকে পাকিস্তানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য আমদানির জন্য দূরবর্তী দেশের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ও পণ্য আনার খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি পণ্য সরবরাহেও আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে।
পাকিস্তানের ওষুধশিল্পের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটির ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের সহজলভ্য কাঁচামালের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চালু থাকলে এসব কাঁচামাল আমদানির মাধ্যমে বছরে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব হতো।
বস্ত্রশিল্পেও বাড়তি ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন কাসুরি। পাকিস্তানে তুলার উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটির বস্ত্রকলগুলোকে ব্রাজিল, মিসর, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে হচ্ছে। এতে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
তিনি আরও বলেন, ভারত এসব পণ্য উৎপাদনে সক্ষম হলেও পাকিস্তানকে চিনি, সার, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, লোহা ও ইস্পাত, শাকসবজি এবং ভারী যন্ত্রপাতির মতো পণ্য দূরবর্তী দেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলে এসব পণ্য তুলনামূলক কম খরচে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
কাসুরির মতে, ভারতের তেল শোধনাগারগুলো পাকিস্তানের কাছাকাছি হওয়ায় সেখান থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি করা গেলে পরিবহন খরচ ও সময়—দুটিই কমবে। একইভাবে ভারতীয় কৃষি ও শিল্পপণ্য সহজলভ্য হলে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে।
পাকিস্তানে তুলা চাষের জমি কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ঐতিহ্যগতভাবে তুলা উৎপাদন হয় এমন এলাকার অনেক কৃষক এখন আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এতে বস্ত্রশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তুলার সরবরাহ কমছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তুলা উৎপাদন বাড়াতে উন্নত কৃষিনীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুধু বাণিজ্য নয়, দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা দেখছেন কাসুরি। তাঁর মতে, পাকিস্তানে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান ছাড়াও অনেক ভারতীয় পর্যটকের পূর্বপুরুষের বাড়ি ও গ্রাম রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে এসব স্থান ঘিরে পর্যটনের সুযোগ বাড়তে পারে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারতের আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলো সংকটের সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নষ্ট করা উচিত নয়।
কাসুরি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অমীমাংসিত বিরোধগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা সম্ভব। দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের পথ তৈরি করা যেতে পারে।
তবে পাকিস্তানের ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির হিসাবটি কাসুরির দেওয়া একটি অনুমান। এ পরিমাণ ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো মূল্যায়ন তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরা হয়নি।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস,