শ্রীমঙ্গলের সময়

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন, ব্যয় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার

বিশ্ব · 2026-11-03T12:05:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচনে পরিণত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচার, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য কার্যক্রম মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেনসিক্রেটস। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ব্যয় ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি হতে পারে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্য এবং বিভিন্ন সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বিজ্ঞাপন ও প্রচারে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে।

ফেডারেল নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ওপেনসিক্রেটস জানিয়েছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত নির্বাচনী চক্রে ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সব হিসাব চূড়ান্ত হলে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এর বড় অংশ এসেছে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরের বিভিন্ন সংগঠন এবং বিশেষ রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটির কাছ থেকে।

নির্বাচনী বিজ্ঞাপনের ব্যয়ও আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিজ্ঞাপন ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাব অনুযায়ী, চলতি নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যয় ও সংরক্ষিত অর্থের পরিমাণ ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রচারের ব্যয় বাড়ছে।

প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট ও গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে নির্বাচনী ব্যয় বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে যেসব আসনে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব এলাকায় বিজ্ঞাপন প্রচারে বিপুল অর্থ ঢালা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে বিজ্ঞাপন ব্যয়ের গতি আরও বেড়েছে।

ওয়েসলিয়ান মিডিয়া প্রকল্পের এক বিশ্লেষণেও নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে বিপুল ব্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট ও গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিজ্ঞাপন প্রচারে অক্টোবরের শেষ নাগাদ কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। নির্বাচনের শেষ দুই সপ্তাহে এই ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি ১০০ সদস্যের সিনেটের ৩৫টি আসনে এবং ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি জোরালো প্রচার চালিয়েছে।

বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির। নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করবে আগামী দুই বছর কংগ্রেসে দলটির নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে কি না। এ কারণে দুই দলই গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে প্রচার-প্রচারণায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে।

নির্বাচনী প্রচারে এত বিপুল অর্থের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় দাতাগোষ্ঠী, করপোরেট স্বার্থ এবং বিশেষ রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর প্রভাব নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের পর এবারের ব্যয়ের প্রকৃত পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত