জাপানে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণ পরিচর্যা দেখতে গেলেন ডা. জুবাইদা রহমান
জাতীয় · 2026-10-29T02:47:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
জাপান সফরের তৃতীয় দিনে ডা. জুবাইদা রহমান টোকিওর ফুজিতা হেলথ ইউনিভার্সিটি হানেদা ক্লিনিক, হংগো হোম-কেয়ার নার্সিং সেন্টার ও টোকিও ন্যাশনাল মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন। বিকেলে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর প্রিন্সেস তাকামাদোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
জাপান সফরের তৃতীয় দিনে টোকিওতে স্বাস্থ্যসেবা, প্রবীণ পরিচর্যা ও সংস্কৃতিবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান। বুধবার (২৮ অক্টোবর) তিনি একটি হাসপাতাল, একটি হোম-কেয়ার নার্সিং সেন্টার এবং টোকিও ন্যাশনাল মিউজিয়াম ঘুরে দেখেন। দিনের কর্মসূচির শেষ দিকে জাপানের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্সেস তাকামাদোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, যিনি সুজন মাহমুদ নামেও পরিচিত, এ তথ্য জানান।
সকালে টোকিওর হানেদা ইনোভেশন সিটিতে অবস্থিত ফুজিতা হেলথ ইউনিভার্সিটি হানেদা ক্লিনিক পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমানের দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে তাঁকে ক্লিনিকের চিকিৎসাপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
পরিদর্শনকালে ক্লিনিকের উন্নত রোগনির্ণয় ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল পজিট্রন এমিশন টমোগ্রাফি (পিইটি)-সিটি, এমআরআই এবং নমুনা সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত রোবট প্রযুক্তি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে জানান, সেখানে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের সিটি স্ক্যানার বিশ্বে মাত্র পাঁচটি রয়েছে। তবে এ সংখ্যার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি প্রবীণদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসনব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিতে পরে টোকিওর বুনকিও-কু এলাকায় অবস্থিত হংগো হোম-কেয়ার নার্সিং সেন্টার পরিদর্শন করেন ডা. জুবাইদা রহমান। সাসাকাওয়া হেলথ ফাউন্ডেশন পরিচালিত কমিউনিটিভিত্তিক এই কেন্দ্রে তিনি নার্সিং ও পুনর্বাসন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
এ সময় কেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় হয়। প্রবীণ ও পরিচর্যা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়। জাপানের কমিউনিটিভিত্তিক পরিচর্যাব্যবস্থা সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এ পরিদর্শন ছিল তাঁর দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।
দুপুরের খাবারের পর ইউয়েনো পার্কে অবস্থিত টোকিও ন্যাশনাল মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন ডা. জুবাইদা রহমান। সেখানে তিনি জাপানের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শন ঘুরে দেখেন। স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণ পরিচর্যার প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক এই কর্মসূচি তাঁর জাপান সফরের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করে।
বিকেলে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পরে জাপানের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্সেস তাকামাদোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তবে তাঁদের আলোচনায় কী কী বিষয় উঠে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ডা. জুবাইদা রহমানের এই কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যসেবা, প্রবীণদের পরিচর্যা, পুনর্বাসন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মতো বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে জাপানের চিকিৎসাব্যবস্থা ও সামাজিক পরিচর্যার কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে এসব পরিদর্শনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে নতুন কোনো স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি, প্রযুক্তি বিনিময় বা সহযোগিতা কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে সফরের এ পর্যায়ে তাঁর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের বিষয়টিই মূল সংবাদ।