বিপদ-আপদ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে সকালে কোন জিকিরগুলো পড়বেন?
ধর্ম · 2026-10-29T01:41:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
বিপদ-আপদ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পাঠের শিক্ষা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। পাশাপাশি আল্লাহর নামে আশ্রয় প্রার্থনার একটি গুরুত্বপূর্ণ জিকিরও তিনবার পড়া যায়। জেনে নিন এসব আমলের আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র।
সকাল শুরু করার সময় একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে আল্লাহকে স্মরণ করা, তাঁর কাছে নিরাপত্তা ও কল্যাণ চাওয়া এবং অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা। দৈনন্দিন জীবনে অসুস্থতা, বিপদ, দুশ্চিন্তা কিংবা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব ক্ষেত্রে একজন মুসলমান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার পাশাপাশি কোরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত দোয়া ও জিকির পড়তে পারেন।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করার জন্য বিভিন্ন জিকির শিখিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ এবং আল্লাহর নামে আশ্রয় প্রার্থনার দোয়া। এসব আমল সম্পর্কে সহিহ বা গ্রহণযোগ্য হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। তাই দোয়াগুলোর আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং সূত্র জেনে নিয়মিত পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পাঠ করার কথা হাদিসে এসেছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) তাঁকে সকাল ও সন্ধ্যায় এই তিনটি সুরা তিনবার পাঠ করতে বলেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, এগুলো তাঁর জন্য যথেষ্ট হবে। এ বর্ণনা সুনান আবু দাউদে ৫০৮২ নম্বর হাদিস হিসেবে সংকলিত হয়েছে; আলবানিও হাদিসটিকে হাসান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন।
সুরা ইখলাসের প্রথম আয়াত হলো, قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ। বাংলা উচ্চারণ, “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ।” অর্থ, “বলুন, তিনি আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়।” (সুরা ইখলাস, আয়াত ১)। এই সুরায় আল্লাহর একত্ব ও অনন্যতার ঘোষণা রয়েছে।
সুরা ফালাকের প্রথম আয়াত, قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ। বাংলা উচ্চারণ, “কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক।” অর্থ, “বলুন, আমি আশ্রয় চাই ভোরের রবের কাছে।” (সুরা ফালাক, আয়াত ১)। এই সুরায় সৃষ্টির অনিষ্ট, অন্ধকারের অনিষ্ট এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।
সুরা নাসের প্রথম আয়াত, قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ। বাংলা উচ্চারণ, “কুল আউযু বিরাব্বিন নাস।” অর্থ, “বলুন, আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে।” (সুরা নাস, আয়াত ১)। সুরাটিতে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা সৃষ্টিকারী শয়তান ও জিন-মানুষের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা রয়েছে। তিনটি সুরার সম্পূর্ণ পাঠ কোরআনের ১১২, ১১৩ ও ১১৪ নম্বর সুরায় পাওয়া যায়।
বিপদ-আপদ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিকির হলো “বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামা-ই, ওয়া হুওয়াস সামীউল আলীম।” এর আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ নিচে দেওয়া হলো।
আরবি: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামা-ই, ওয়া হুওয়াস সামীউল আলীম।
বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সঙ্গে থাকলে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
এই জিকিরটি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সুনান আবু দাউদ, জামে আত-তিরমিজি ও সুনান ইবনে মাজাহসহ একাধিক হাদিসগ্রন্থে এর বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদিসটির গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে আলেমদের মূল্যায়নও উল্লেখ করা হয়েছে।
সকালবেলার জিকিরের পাশাপাশি একজন মুসলমানের উচিত আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করা। দোয়া ও জিকির বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনার ইবাদত; এগুলোকে এমন কোনো নিশ্চয়তা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়, যার ফলে সব ধরনের বিপদ কখনোই ঘটবে না। অসুস্থতা বা বাস্তব বিপদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, সতর্কতা ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি।
সকালে সব জিকির একসঙ্গে মুখস্থ করতে না পারলে অল্প কয়েকটি দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। প্রথমে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এরপর আল্লাহর নামে আশ্রয় প্রার্থনার জিকিরটি শিখুন। আরবি শুদ্ধভাবে পড়ার চেষ্টা করুন এবং প্রতিটি দোয়ার অর্থ বুঝে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে সাহায্য চান। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এসব আমল দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।