শ্রীমঙ্গলের সময়

উচ্চশিক্ষায় নতুন উদ্যোগ, স্যাটেলাইট টিভি চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির

শিক্ষা · 2026-10-29T03:12:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

উচ্চশিক্ষায় সুযোগের বৈষম্য কমাতে আলাদা স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা করছে ইউজিসি। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর কথা ভাবছে সংস্থাটি। পাশাপাশি দুই বছরের মধ্যে প্রায় ১৮০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য কমাতে উচ্চশিক্ষার জন্য আলাদা স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ উদ্যোগের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রযুক্তিগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে শুরু করার কথা ভাবছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১৮০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ইউজিসি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার সুযোগ ও একাডেমিক কার্যক্রমে পার্থক্য রয়েছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শহরকেন্দ্রিক এলাকায় অবস্থিত, আবার কোনোটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ এবং একাডেমিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষার জন্য পৃথক টেলিভিশন চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সুবিধা ব্যবহার করে শুরু করা সম্ভব।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক একই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, পাঠদান এবং একাডেমিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে চ্যানেলটির সম্প্রচার কবে শুরু হবে, কী ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে কিংবা শিক্ষার্থীরা কীভাবে এর সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি বা বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি।

স্যাটেলাইট টেলিভিশন চালুর পরিকল্পনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে ইউজিসি। অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১৮০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ এবং ডিজিটাল ক্যাম্পাসের প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলার কথা ভাবা হচ্ছে।

তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ তৈরি করা গেলে একাডেমিক যোগাযোগ, যৌথ গবেষণা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষকদেরও দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে জ্ঞান ও গবেষণার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স এবং অনলাইন প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; তাঁদের দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। মানসম্মত, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসেই নানা ধরনের শিক্ষামূলক বিষয় শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপদ্ধতি ও অবকাঠামোকে আরও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। এ জন্য ইউজিসি ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা সব বয়স, সামাজিক অবস্থান ও ভৌগোলিক অঞ্চলের মানুষকে সমানভাবে শিক্ষার আওতায় আনতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তাঁর ভাষ্য, এ সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেন, আবার অনেকে মূলধারার শিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে এসব মানুষের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, মানসম্মত ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব। দূরশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা, পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া সেন্টার এবং দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক থাকায় এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ধারণা দিয়েছিলেন। পরে ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ইউজিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিজিটাল নেটওয়ার্ক—দুটি উদ্যোগই উচ্চশিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এগুলো এখন পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরুর সময়, প্রকল্পের ব্যয়, বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট ধাপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন ও পরিধি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত