শ্রীমঙ্গলের সময়

ঘাটাইলে মাদ্রাসার গেটে দুটি নামফলক ঘিরে বিরোধ, একই জমিতে কারিগরি স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠান অভিযোগ

সারাদেশ · 2026-10-25T12:26:05.000000Z · মো. রায়হান মিয়া

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের আমুয়াবাইদ আজাদিয়া আলিম মাদ্রাসার গেটে দুটি নামফলক স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। একই জমিতে আরেকটি আলহাজ্ব মোয়াজ্জেম  হোসেন কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় ও শিক্ষকরা জানান, এ বিরোধের স্থায়ী সমাধানের জন্য জমির দলিল, খতিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানায়, আমাদের এই মাদ্রাসায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলে আমরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। যেমন আমরা বোরকা, পাঞ্জাবি ও টুপি পরে মাদ্রাসায় আসি। অন্যদিকে, কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা প্যান্ট-শার্ট পরে আসবে। একই প্রতিষ্ঠানে দুই ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চললে পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আমাদের মাদ্রাসার স্বতন্ত্র পরিবেশ ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানাচ্ছি।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটির নামে ৭৫ শতাংশ জমি রয়েছে। জমির মালিকানাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। জমিটি মাদ্রাসার নিজস্ব সম্পত্তি বলে দাবি করেন তিনি। মাদ্রাসার জমির বাইরে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। মাদ্রাসার ভিতরে উক্ত সভাপতির জায়গা আছে বলে মাদরাসায় সরকারি বরাদ্দে নির্মিত ঘরে স্বতন্ত্র কারিগরি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার লক্ষ্যে মাদরাসার মেইন গেইটে দাখিল মাদরাসার নাম মুছিয়ে সে জায়গায় নিজের পিতার নামে আলহাজ্ব মোয়াজ্জেম হোসেন কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ এর সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন এবং মাদরাসার ক্যাম্পাসের ভিতরে পরিত্যক্ত ভবনের সামনে একটি সাইবোর্ড স্থাপন করেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ফলে জমির প্রকৃত মালিকানা, সীমানা নির্ধারণ এবং একই স্থানে পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসার সভাপতি হাবিবুর রহমান দাবি করেন, আমরা কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট স্থানে তাঁদের জমি রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এই মাদ্রাসায় আমার বাবা জমি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘদিন আমি পরিচালনা করে আসছি। একসাথে দুইটা প্রতিষ্ঠান অনেক জায়গায় রয়েছে। আমাদের একত্রিত হলে সমস্যা কি আর একত্রিত হওয়া ভালো। 
এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, একটি মাদ্রাসার ভেতরে আরেকটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তাঁর জানা নেই এবং এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগও করা হয়নি। কারিকারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সম্পর্কেও তিনি অবগত নন। অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত