জনগণের আস্থা অর্জন করে ‘জনগণের পুলিশ’ হয়ে উঠুন: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী
জাতীয় · 2026-11-01T16:14:00.000000Z · শ্রীমঙ্গলের সময় ডেস্ক
পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশকে ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেবাপ্রত্যাশী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি পুলিশকে আরও আন্তরিক হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ভয়-ভীতি ও পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে জনগণকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিতে হবে।বুধবার সকালে রাজশাহী জেলার সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচ)-এর ৬ মাস মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠিত করে একটি দক্ষ, আধুনিক ও মানবিক সেবামুখী বাহিনীতে রূপান্তর করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এর অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন ক্রয়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও লজিস্টিক সরবরাহের কাজ চলছে।নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আপনারা এ পেশায় যোগ দিয়েছেন। নিজেদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো প্রকার বৈষম্য ও অন্যায়ের চর্চা করবেন না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহার ও পেশীশক্তির পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং মানবিক পুলিশিং চর্চা করার আহ্বান জানান তিনি।সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, মাদক ও মানব পাচারের মতো জটিল অপরাধ মোকাবিলায় প্রথাগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিকের ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন ইউনিটে কাজের সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি কর্তব্যে অবহেলা ও নৈতিকতা বিরোধী কাজের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধানও বলবৎ থাকবে।অনুষ্ঠানে মন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।পুরস্কারপ্রাপ্তরা:২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট: বেস্ট সার্জেন্ট—মোহাঃ ওমর ফারুক; বেস্ট একাডেমিক—মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন; বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ—সাইফুল ইসলাম; বেস্ট শ্যুটার—মোহাঃ আসাদুজ্জামান।৪৩তম ক্যাডেট এসআই (২০০৬ ব্যাচ): বেস্ট ক্যাডেট—মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম; বেস্ট একাডেমিক—মোঃ বোরহানুল ইসলাম; বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ—দেওয়ান গোলাম রসুল; বেস্ট শ্যুটার—মোঃ কামাল গনি।উল্লেখ্য, ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্টের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টরের ১৬২ জনসহ সর্বমোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. মাইনুল হাসান বিপিএম, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রেজাউল আলম সরকার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।